আল্লাহর দয়া বান্দার ওপর । আল্লাহর নূর বন্টন এবং জান্নাত ও জাহান্নামের যাওয়ার পথের বিবরণ

আল্লাহর নূর বন্টন এবং জান্নাত ও জাহান্নামের যাওয়ার পথের বিবরণ

 আল্লাহর কুদরতী নলার ঔজ্জ্বল্য, পুলসেরাত ও নূর বণ্টনের বিবরণ

কাফের মুশরেক ও মুনাফেকদের ভয়ংকর বিপদ?
কেয়ামতের দিনটি হচ্ছে সুবিচারের দিন। সেদিন প্রত্যেক লােক নিজের আমলের ওজন স্বচক্ষে অবলােকন করে জান্নাতে অথবা জাহান্নামে প্রবিষ্ট হবে। কারাে একথা বলার সাহস হবে না যে, আমার প্রতি জুলুম করা হয়েছে। আমি, বিনা কারণে জাহান্নামে যাচ্ছি। তাই কোরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা বলেন
 “ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার আমলের পুরাপুরি প্রতিদান দেয়া হবে। সে খুব ভালভাবেই জানে যে, সে কি করছে।”

নূর বণ্টন  

পুলসেরাত অতিক্রম করার আগে মুমিনদের মধ্যে আল্লাহর নূর বণ্টন করে দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, ঈমানদার নারী ও পুরুষগণের আমল অনুযায়ী তাদের মধ্যে নূর বণ্টন করা হবে। (আর সে নূরের আলােতে তারা পুলসেরাত পার হবে)। এ নূর হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাতের পথ প্রদর্শনকরী। এদের মধ্যে কারাে নূর হবে পাহাড়সম। কারাে হবে বৃক্ষসম। যে ব্যক্তি সবচেয়ে কম নূর লাভ করবে, তার নূর আংটির মধ্যে বাতির ন্যায় ঝলমল করতে থাকবে। কখনাে তা নিভে যাবে এবং কখনাে তা জ্বলে উঠবে। -তাফসীরে দূররে মানসুর।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন- “ সেদিন আপনি মুমিন পুরুষ ও মুমিনা মহিলাদেরকে দেখবেন যে, তাদের সামনে ও ডানে নূর দৌড়াচ্ছে। (আর ফেরেশতারা তাদেরকে বলবে) আজ তােমাদেরকে এমন জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হচ্ছে, যার নিম্নদেশ হতে নহর প্রবাহিত। তাতে তারা চিরদিন অবস্থান করবে। আর এটাই হচ্ছে তাদের বিরাট সাফল্য। —সূরা হাদীদ- ২ য় রুকু।

নূর লাভ করার পর মুমিন নর-নারীগণ পুলসেরাত পার হতে থাকবে। আর তাদের নূরের আলােতে মুনাফেক নারী-পুরুষেরা তাদের পেছনে পেছনে থাকবে। কিন্তু মুমিন নর-নরীগণ সম্মুখে অগ্রগামী হবে আর মুনাফেক নর-নারীরা পেছনে পড়ে থাকবে। তারা উচ্চৈস্বরে মুমিনগণকে বলবে, তােমরা একটু অপেক্ষা কর, আমরাও আসছি, তােমাদের নূরের আলাে দ্বারা আমাদের উপকার হচ্ছে। তখন ঈমানদারগণ বলবে, (এখানে নিজের নূরের দ্বারাই কাজ হয়।) অপরের নূর দ্বারা এখানে উপকৃত হওয়ার কোন বিধান নেই। তােমরা পেছনে চলে যাও। যেখানে নূর বণ্টন হয়, সেখানে গিয়ে নূর সন্ধান কর। সুতরাং মুনাফেক নর-নারীরা নূর লাভের আশায় পেছনে ফিরে যাবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা কিছুই পাবে না। তখন মুমিন ও মুনাফেক উভয় দলের মধ্যে একটি প্রাচীর সৃষ্টি হবে। তাতে ভেতর দিক দিয়ে একটি দরজা থাকবে। সেখানে মুসলমানরা অবস্থান করবে এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হবে। আর প্রাচীরের বাইরে থাকবে শাস্তি, সেখানে মুনাফেকরা অবস্থান করবে। এ বিষয়ে সূরা হাদীদে আলােচিত হয়েছে?  “ সেদিন মুনাফেক নর-নারীরা মুমিনগণকে বলবে, তােমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা কর, যাতে আমরা তােমাদের নূর থেকে আলাে গ্রহণ করতে পারি। তখন মুমিনগণ বলবে, তােমরা পেছনে চলে যাও এবং সেখানে নূর সন্ধান কর। অতঃপর উভয় দলের মধ্য একটি প্রাচীর দণ্ডায়মান হবে এবং তার অভ্যন্তরীণ দিকে একটি দরজাও থাকবে। তাতে থাকবে আল্লাহর রহমত। আর তার বাইরের দিকে থাকবে শাস্তি।” —সূরা হাদীদ- ২ য় রুকু।

আল্লাহর কুদরতি নলার ঔজ্জ্বল্য 

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ) -এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি কেয়ামতের দিন আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন, হ্যা অবশ্যই দেখতে পাবে। দুপুরের সময় সূর্য যখন মেঘমুক্ত থাকে, তখন কি সূর্য অবলােকন করতে তােমাদের কোন অসুবিধা হয়? মেঘমুক্ত আকাশে চতুর্দশী রাতে চন্দ্র অবলােকন করতে তােমাদের কি কোন কষ্ট হয়? সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! চন্দ্র দর্শনে আমাদের কোনই কষ্ট হয় না। তখন নবী করীম (সঃ) বললেন, তােমরা এভাবে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলাকে ভালভাবে দেখতে পাবে, কোন কষ্ট হবে না। যেমন চন্দ্র-সূর্য দেখতে তােমাদের কোন কষ্ট হয় না। অতঃপর নবী করীম (সঃ) বললেন, কেয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার পর একজন ঘােষক ঘােষণা করবে, যে যার পূজা অর্চনা ও এবাদত-বন্দেগী করতে, সে তার সাথেই থাক। সুতরাং যারা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কাউকে অর্থাৎ প্রতিমা, মূর্তি, পাথর, গাছপালা ইত্যাদির পূজা-অর্চনা করত, তারা সবাই জাহান্নামে পতিত হবে। তাদের কেউই জাহান্নামে পতিত না হয়ে থাকবে না (কেননা তাদের বাতিল মাবুদরাও হবে জাহান্নামের ইন্ধন)। সেসব আহলে কিতাবগণ থাকবে, যারা একমাত্র আল্লাহ তাআ’লার এবাদাত-বন্দেগী করত। তাদের মধ্যে নেককার বদকার সবলােকই থাকবে। তখন ইহুদীগণকে ডেকে জিজ্ঞেস করা হবে, দুনিয়ায় তােমরা কার এবাদত করতে? জওয়াবে তারা বলবে আমরা আল্লাহ তাআ’লার পুত্র নবী উযায়ের (আঃ) -এর এবাদত বন্দেগী করতাম! এ উত্তরে তাদেরকে খুব শাসান হবে, আর বলা হবে, তােমরা মিথ্যাবাদী। আল্লাহ তাআলা কাউকে নিজের পুত্র বা স্ত্রী মনােনীত করেননি। অতঃপর তাদের কাছে জিজ্ঞেস করা হবে, তােমরা কি চাও? তখন তারা আরয করবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা খুব পিপাসিত। আমাদেরকে পানি পান করিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করুন। এ কথায় তাদেরকে জাহান্নামের দিকে ইঙ্গিত করে বলা হবে, ওখানে গিয়ে কেন পান করছ না? অতঃপর তাদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে একত্রিত করা হবে। (দূর থেকে পানির ন্যায় মরীচিকা মনে হলেও) আসলে তা হচ্ছে অনলকুণ্ড। এ আগুনের শিখা ও অংশগুলাে একে অপরকে জ্বালাতে থাকবে। অতঃপর তারা সে আগুনে পতিত হবে।

অতঃপর খ্রিস্টানদেরকে ডেকে তাদের কাছে জিজ্ঞেস করা হবে, তােমরা কার এবাদত করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহ তাআলার পুত্র ঈসা (আ) -এর এবাদত করতাম। এরূপ উত্তরের জন্য তাদেরকে ধিক্কারস্বরূপ বলা হবে, তােমরা তােমাদের কথায় মিথ্যাবাদী। আল্লাহ তাআ’লা কাউকে কখনাে নিজের স্ত্রী বা পুত্র আখ্যায়িত করেননি। তারপর তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, তােমরা কি চাও? তারা আরয করবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা পিপাসাকাতর। আমাদেরকে পানি পান করান। তাদের এ কথায় জাহান্নামের দিকে ইঙ্গিত করে বলা হবে, ওখানে গিয়ে কেন পান করছ না? অতঃপর তাদেরকে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে সমবেত করা হবে। আর দূর থেকে দেখা যাবে যে, বালুকারাশি ঝলমল করছে। (মূলত তা হচ্ছে জাহান্নামের আগুন) যার অংশগুলাে একে অপরকে জ্বালাতে থাকবে। সুতরাং তারা সে আগুনে পতিত হবে।

আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের প্রতিপালক এবং তােমাদের মধ্যে কি কোন নির্দিষ্ট নিদর্শন আছে, যা দ্বারা তােমরা তােমাদের প্রতিপালকে চিনতে পার? প্রত্যুত্তরে মুমিনগণ বলবে, অবশ্যই আমাদের কাছে নিশান রয়েছে। এরপর আল্লাহ তাআলার কুদরতে নলার নূর বিকশিত হবে। যারা একনিষ্ঠতার সাথে আল্লাহ তাআলার সিজদারত হত, তারা সবায়ই এ নূর অবলােকন করে সেজদায় লুটিয়ে পড়বে। আর যারা দুনিয়ায় মানুষকে দেখাবার জন্য বা বিপদ আপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে মুনাফেকী করে সেজদায় লিপ্ত হত, আল্লাহ তাআ’লা তাদের সবার কোমরকে কাঠের তক্তার ন্যায় শক্ত করে দেবেন। ফলে তারা সেজদা করতে পারবে না। তাদের মধ্যে কেউ সেজদা করার ইচ্ছা করলেও তারা অধঃমুখে উপুড় হয়ে পড়ে যাবে, কিন্তু সেজদা করতে সক্ষম হবে না। অতঃপর মুমিনগণ সেজদা হতে মাথা উত্তোলন করবে। তখন যারা আল্লাহকে দেখবে, তার কুদরতী নলার বিকশিত নূর দেখতে পাবে। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমি হচ্ছি তােমাদের প্রতিপালক! তখন মুমিনগণ এ কথা মেনে নেবেন যে, হ্যা আপনিই আমাদের প্রতিপালক।

এরপর জাহান্নামের উপরিভাগে পুলসেরাত স্থাপন করা হবে এবং সকলকে তা পার হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হবে। এ সময় যারা শাফায়াত করার যােগ্য হবেন, তাদেরকে শাফায়াত করার অনুমতি দেয়া হবে। আর সকলে তখন বলতে থাকবে, হে আল্লাহ! নিরাপদে রাখুন! নিরাপদে রাখুন! 

মুমিনগণ খুব দ্রুত গতিতে পুলসেরাত অতিক্রম করবে। তাদের এ দ্রুতগতি তাদের আমল অনুযায়ী হবে। কেউ চোখের পলকের মধ্যে, কেউ বিদ্যুতের ন্যায়, কেউ বায়ুর ন্যায়, কেউ পাখীর ন্যায়, কেউ উত্তম ও দ্রুতগামী ঘােড়ার ন্যায় এবং কেউ উটের পথ চলার গতিতে তা পার হয়ে যাবে। আর জাহান্নাম থেকে যেসব সাড়াশী ও কাঁটা উথিত হবে, সেগুলাে মানুষকে টেনে ধরে জাহান্নামে পতিত করার চেষ্টা করবে। পরিণতিতে বহু লােকই নিরাপদে পুলসেরাত পার হবে, আর অনেকে চলতে চলতে বহু কষ্টে পার হবে। আর অনেক লােককে ধাক্কিয়ে জাহান্নামে ফেলে দেয়া হবে। কিন্তু ঈমানদারগণ জাহান্নাম হতে রক্ষা পাবেন। 

ঈমানদারগণ যখন দেখবে যে, আমরা নাজাত লাভ করেছি, তখন আল্লাহ তাআলার কাছে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! যারা গুনাহের কারণে জাহান্নামে পতিত হয়েছে, তারা আমাদের সাথে নামায আদায় করত, রােযা পালন করত এবং তারা হজ্জ পালন করত। (এখন তাদেরকে আপনি আমাদের সাথে জান্নাতে দাখেল করুন) তখন আল্লাহর পক্ষ হতে বলা হবে, তােমরা যাকে যাকে চেন, তাকে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে আন। অন্তর তারা সেই পরিচিত লােকদেরকে বের করার জন্য অগ্রসর হবেন। এ সময় তাদের দেহ জাহান্নামের আগুনে ভষ্ম হওয়া নিষিদ্ধ করা হবে। সুতরাং জাহান্নাম থেকে তারা বিপুল সংখ্যক লােক বের করে আনবেন। এসব জাহান্নামী লােকদের কাউকে আগুন অর্ধনলা পর্যন্ত জ্বালিয়েছে, কাউকে হাঁটু পর্যন্ত জ্বালিয়েছে। অতঃপর ঈমানদারগণ আল্লাহ তাআলার কাছে নিবেদন করবেন, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি যাদেরকে বের করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের কেউ-ই এখন জাহান্নামে নেই। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তােমরা পুনরায় জাহান্নামে প্রবেশ করে দেখ যে, যাদের অন্তরে একটি দিনার পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান আছে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আন। একথার পর মুমিনগণ বহু সংখ্যক লােককে জাহান্নাম হতে বের করে আনবেন। অতঃপর তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি যাদেরকে বের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাদের সবাইকেই আমরা বের করেছি। এরপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, তােমরা জাহান্নামে প্রবেশ করে দেখ, যাদের অন্তরে আধাদিনার পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান তাদেরকে জাহান্নাম হতে বের করে আন। সুতরাং মুমিনগণ বহু সংখ্যক লােককে জাহান্নাম হতে বের করবে আর বলবেন, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তাদের কাউকেই জাহান্নামে রাখিনি, যাদেরকে বের করে আনার জন্য আপনি নির্দেশ দিয়েছেন। তারপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, যাদের অন্তরে অণু পরমাণু পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান আছে, তােমরা তাদেরকেও জাহান্নাম থেকে বের করে আন। অতঃপর তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! যাদের অন্তরে অণু পরমাণু পরিমাণও ঈমান রয়েছে তাদের কাউকেই আমরা জাহান্নামে রাখিনি, সকলকেই বের করে এনেছি।

এরপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, ফেরেশতাগণ শাফায়াত করেছে, নবী-রাসূলগণ শাফায়াত করেছেন, ঈমানদারগণও শাফায়াত করেছেন, এখন কেবল আরহামুর রাহিমীনই বাকী আছেন। একথা বলার পর আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম হতে তার কুদরতী হাত দ্বারা এক মুঠো লােক গ্রহণ করবেন। এদের মধ্যে এমন সব লােক হবে যারা কখনাে কোন ভাল ও কল্যাণকর কাজ করেনি। (তাদের কাছে কেবলমাত্র ঈমানই ছিল গােপন সম্পদ) এরা জাহান্নামের আগুনে জ্বলে কয়লা সাদৃশ্য হবে। তাদেরকে আল্লাহ তাআলা জান্নাতের প্রথমাংশে প্রবাহিত একটি নহরে ফেলবেন। এ নহরটির নাম হলাে নাহরুল হায়াত। (এ নহরে পড়ার পর তাদের দেহের রূপ-রং পরিবর্তন হয়ে যাবে। তারা এ নহর থেকে এমন অবস্থায় বের হবে যেন? একটি মােতি। তাদের কাঁধে একটি চিহ্ন থাকবে, যা দেখে জান্নাতীগণ বুঝবে যে, এরা হচ্ছে আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে মুক্তিপ্রাপ্ত। এদেরকে আল্লাহ তাআলা কোন নেক আমল ছাড়া এবং পরকালের জন্য কোন কল্যাণমূলক কাজ করা ছাড়াই জান্নাত দান করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বলবেন, তােমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। সেখানে যত জায়গা তোমাদের দৃষ্টিতে পড়ে, তা সবই তােমাদের জন্য। তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে যা কিছু দান করেছেন তা দুনিয়ার কোন লােককেই দান করেননি। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তােমাদের জন্য আমার কাছে এর চেয়েও অনেক উত্তম নেয়ামত আছে। তখন তারা আরজ করবে, হে আমাদের প্রতিপালক! এর চেয়েও উত্তম ও শ্রেষ্ঠ কি হতে পারে? আল্লাহ তাআলা বলবেন, এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত হচ্ছে আমার সন্তুষ্টি। সুতরাং এখন থেকে তােমাদের প্রতি আমি আর কখনই অসন্তুষ্ট হব না। —বোখারী, মুসলিম, আত্তারগীব অত্তারহীব।

এ দীর্ঘকায় হাদীসে বলা হয়েছে যে, কুদরতী নলার নূর বিকশিত হওয়ার পর পুলসেরাত স্থাপন করা হবে। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, নলার নূর বিকশিত
হওয়া এবং পুলসেরাত অতিক্রম করার মধ্যবর্তী সময় নূর বণ্টন হবে। কেননা, পুলসেরাত অতিক্রম করার জন্য নূর বণ্টন করা হবে। কিন্তু ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নূর বিকশিত হওয়ার পূর্বেই নূর বণ্টনের কথা বর্ণনা করেছি।

বিশ্বনবী (সঃ) সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজা খােলাবেন
নবী করীম (সঃ) বলেছেন, কেয়ামতের দিন সমস্ত নবীদের উম্মতের তুলনায় আমার উম্মতে এবং আমার তরীকা অনুসাৰ্মীগণের সংখ্যা হবে সর্বাধিক। আর আমিই জান্নাতের দূরজা খােলার জন্য প্রথম কড়া নাড়ব। —মুসলিম ।

তিনি আরও বলেন, কেয়ামতের দিন আমি প্রথম জান্নাতের দরজায় এসে তা খােলার জন্য বলব। জান্নাতের প্রহরী জিজ্ঞেস করবে, আপনি কে ? উত্তরে আমি বলব, আমি মুহাম্মদ (সঃ), তখন সে বলবে, আমাকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, দরজা শুধু আপনার জন্য খেলব, আপনার পূর্বে আর কারাে জন্য দড়জা না খোলার —মুসলিম ।

মানুষ দলে দলে জানাত ও জাহান্নামে প্রবেশ করবে

মুমিনগণ ঈমান ও তাকওয়ার মানগত দিক দিয়ে আলাদা আলাদা এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হবে । এদের সকল দলকেই ইজ্জত ও সম্মানের সাথে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে। জান্নাতের দরজায় পৌঁছার সাথে সাথেই জান্নাতের প্রহরী তাদেরকে চিরশান্তি ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা শুনিয়ে তাদেরকে খােশ আমদেদ জানিয়ে বলবে, তােমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হােক এবং তােমরা সুখী হও, আর চিরস্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য এ জান্নাতে প্রবেশ কর। -সূরা যুমার- ৮ম রুকু

জাহান্নামের দরজাগুলো জেলখানার দরজার ন্যায় পূর্ব থেকেই বন্ধ থাকবে। যেহেতু কাফের মুশরেকদের প্রকার ও শ্রেণী হৰে বহুবিধ, তাই প্রত্যেক প্রকার ও শ্ৰেণীকে আলাদা আলাদা দলে বিভক্ত করা হবে। “অবশেষে কাফের মুশরেকগণকে যখন জাহান্নামের দরজায় পৌছবে, তখন জাহান্নামের দরজাগুলো খোলা হবে। আর তাদেরকে জাহান্নামের প্রহরী বলবে, তোমাদের মধ্য থেকে তােমাদের কাছে কি এমন কোন রাসুল আগমন করেননি? যারা তোমাদেরকে তােমাদের প্রতিপালকের আয়াত পাঠ করে শুনাতেন এবং আজকের দিনের সাক্ষাৎ হওয়া সম্পর্কে তােমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করছেন? তখন তারা বলবে, হ্যা অবশ্যই এসেছিল। কিন্তু শান্তির প্রতিশ্রুতি কাফেরদের প্রতি পুরাপুরিভাবে বাস্তবায়িত হল। অতঃপর তাদেরকে বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের দরজাপথে প্রবেশ কর এবং তাতে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান কর। সুতরাং অহংকারীদের ঠিকানা খুবই খারাপ। —সূরা যুমার- ৮ম রুকু ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *