ইন্টারনেটের এগিয়ে চলা ও ইন্টারনেটের ভবিষ্যত Internet Feature

ইন্টারনেট আবিষ্কার


ইন্টারনেটকে সকল নেটওয়ার্কের সম্রাট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ ইন্টারনেট হলাে নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক। মূলত এক বা একাধিক কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাথে অপর এক বা একাধিক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যুক্ত হয়, তারপর তার সাথে আরেক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যুক্ত হয়ে এভাবে পৃথিবীব্যাপী যে সুবিশাল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে সংক্ষেপে তাকেই বলা হয় ইন্টারনেট। ইন্টারনেট কোন মালিক বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে নয়। প্রতিটি কম্পিউটার পরিচালনাকারী এক একজন মালিক বা এক একটি প্রতিষ্ঠান। একটা গ্রুপ কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং পদ্ধতির সার্ভারের সাথে আরেকটি গ্রুপ কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং পদ্ধতির সার্ভারে যােগাযােগ স্থাপন করার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী গড়ে উঠেছে সুবিশাল ইন্টারনেট পরিবার। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির মহাযজ্ঞে ইন্টারনেট তাই রাখতে পারছে তার নিজের প্রকৃত ভূমিকা।

আর কম্পিউটারটি যখন ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে তখন কম্পিউটারটির সামনে বসে তুমি সুদূর আমেরিকা বা আফ্রিকায় স্থিত ইন্টারনেটভূক্ত কম্পিউটারের সাথে মুহূর্তের মধ্যে যােগাযােগ অন করতে পারবে। প্রেরণ কিংবা গ্রহণ করতে পারবে সকল ধরনের । বিনিময় করতে পারবে ছবি, সিনেমা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নিজের টওয়ার্কভূক্ত কম্পিউটারে ডাউনলােড করতে পারবে বিভিন্ন ধরনের ফ্রি সফটওয়্যার।

যে কোন অজ পাড়া গাঁয়ে বসে থেকে যদি নিজের কম্পিউটারটিকে নেটওয়ার্কভূক্ত করা যায় তাহলে সেই নেটওয়ার্কভূক্ত কম্পিউটারের সাহায্যে বিচরণ করা যাবে বিশ্বব্যাপী সুবিশাল কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাথে। মুহূর্তের মধ্যে যুক্ত হতে পারা যাবে সুদূর এন্টার্কটিকায় অবস্থিত নেটওয়ার্কভূক্ত কোন কম্পিউটারের সাথে। প্রেরণ কিংবা গ্রহণ করা যাবে। ছবি, সিনেমা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিনিময় করা যাবে সকল ধরনের বার্তা। আর এই কাজগুলাে অতি সহজেই করা যাবে মাত্র কয়েকটি বােতাম টিপে। | শুধু কম্পিউটার নয়, বর্তমানে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের বা মডেলের স্মার্ট ফোন দিয়েও অনায়াসে কম্পিউটারের মতাে বিচরণ করা যায় ইন্টারনেটের সুবিশাল জগতে। তােমার হাতে ধরা স্মার্ট ফোনটি হয়ে উঠতে পারে। ইন্টারনেটের ঝলমলে জগতে প্রবেশের মাধ্যম। কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট থেকে তুমি যেসব সুবিধা ভােগ করতে পার স্মার্ট মােবাইল ফোনের মাধ্যমেও তুমি প্রায় সব ধরনের সুবিধা ভােগ করতে পারবে অনায়াসে। শুধু তােমার প্রয়ােজন হবে স্মার্ট ফোনে ইন্টারনেট সংযােগ।

ইন্টারনেটের অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ


বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উন্নতি হয়েছে অনেক গুণ। এক যুগ আগেও অবস্থাটা ছিল বিপরীত। ধীরগতির ব্যয়বহুল ইন্টারনেট ছিল তখন। আর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও ছিল অনেক কম। বর্তমানে বেড়েছে ইন্টারনেটের গতি আর এসেছে নতুন সব প্রযুক্তি। এক সময়ের টেলিফোন-নির্ভর ডায়াল-আপ ইন্টারনেটের জায়গায় এখন এসেছে তারহীন দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবস্থা। গবেষকদের সূত্র মতে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় পাঁচ কোটি ব্যবহারকারী ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। প্রতিবছর ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার বর্তমানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। সুত্র অনুযায়ী ব্যবহারকারী বৃদ্ধির অন্যতম একটি অংশ। মােবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ইদানিং স্মার্ট ফোনের ব্যপক বিস্তৃতি ও সহজলভ্যতার কারণে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

১৯৯৬ সালে যখন প্রথমবারের মতাে অনলাইন ইন্টারনেট সেবা চালু হয়, তখন ডায়াল-আপ ইন্টারনেট ব্যবহৃত হতাে, যার গতি ছিল অনেক কম। বর্তমানে এ পদ্ধতি আর নেই বললেই চলে। এখন একজন সাধারণ ব্যবহারকারীও উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। সব মিলিয়ে গত কয়েক বছরে ইন্টারনেটের গতিপ্রকৃতি সবকিছুই বেড়েছে। ল্যাপটপ ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন স্থানে ওয়াইফাই সুবিধার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। টুজি, থ্রিজি পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন ফোরজি ইন্টারনেটের জগতে প্রবেশ করেছে। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাও উপভােগ করছে। সুবিন্যাস্ত ইন্টারনেট প্রযুক্তি। বর্তমানে তারহীন দ্রুতগতির ওয়াইম্যাক্সের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে ওয়াইফাইয়ের ব্যবহার। এখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে দ্রুতগতির জন্য ফাইবার অপটিক কেবল ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, ডিভি ভিসা, সরকারি বিভিন্ন সেবা এখন ইন্টারনেটে দেয়া হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন প্রয়ােজনে ইন্টারনেটের দ্বারস্থ হচ্ছেন সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা। ই-কমার্স চালু করায় ইন্টারনেটে লেনদেনে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকে এবং এই সাথে বাড়ছে ইন্টারনেটের ব্যবহার।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব


ইন্টারনেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা ব্যবহৃত বিষয় হলাে ওয়েব ব্রাউজিং। এই ওয়েব ব্রাউজিং করার পেছনে কাজ করে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব প্রযুক্তি। যার সংক্ষিপ্ত বা কথ্য রূপ হলাে ওয়েব পেজ ব্রাউজিং। অন্যকথায় যাকে বলা হয় ইন্টারনেট দিয়ে দর্শনযােগ্য আন্তঃসংযােগকৃত তথ্যাদির একটি ভাণ্ডার। একটি ওয়েব ব্রাউজারের সহায়তা নিয়ে একজন দর্শক ওয়েব পাতা বা ওয়েব পেজ দেখতে পারে এবং সংযােগ বা হাইপারলিংক ব্যবহার করে নির্দেশনা গ্রহণ ও প্রদান করতে পারে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত হাইপার টেক্সট ডকুমেন্টগুলাে নিয়ে কাজ করার প্রক্রিয়ায় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (World Wide Web বা WWW) নামে পরিচিত।

হাইপার লিংকের সাহায্যে ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে ওয়েব পেইজ দেখা যায়, যা টেক্সট, চিত্র, ভিডিও ও অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ হতে পারে। | বাস্তবিক পক্ষে, ওয়েব পেজ ব্যবহারের সফলতা ইন্টারনেটকে জনপ্রিয়। করতে গুরুত্ববহ ভূমিকা রেখেছেন। অনেক সময় সাধারণত ওয়েব পেজের অর্থকে গুলিয়ে ফেলা হয়। মনে রাখতে হবে ইন্টারনেট কখনই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের প্রতিশব্দ সমার্থক কোনাে শব্দ নয়। ওয়েব হল মূলত ইন্টারনেটের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটা Application মাত্র।

ইন্টারনেটে ওয়েব যেভাবে কাজ করে ?


ওয়েব পেজ দেখার প্রক্রিয়া সাধারণত কোন ব্রাউজারে ইউআরএল টাইপ করা বা কোন পাতা হতে হাইপারলিংক অনুসরণের মাধ্যমে শুরু হয়ে থাকে। এরপর ওয়েব ব্রাউজার যােগাযােগ স্থাপনের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কিছু বার্তা প্রদান শুরু করে। এর ফলশ্রুতিতে পরিশেষে পাতাটি দর্শনযােগ্য হয়ে ওঠে।

প্রথমেই ইউআরএল এর সার্ভার নামের অংশটি আইপি এ্যাড্রেস ধারণ করে। এজন্য এটি একটি বিশ্বজনীন ইন্টারনেট ডাটাবেস বা তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে যা ডােমেইন নেম সিস্টেম নামে পরিচিত। এই আইপি ঠিকানাটি ওয়েব সাভারে ডাটা প্যাকেট প্রেরণের জন্য জরুরী। এরপর ব্রাউজার নির্দিষ্ট ঠিকানাটিকে একটি এইচটিটিপির আবেদন জানায় ওয়েব সার্ভারের কাছে। সাধারণ কোন ওয়েব পেজের বেলায়, পাতাটির এইচটিএমএল লেখার জন্য শুরুতে আবেদন জানানাে হয়। এরপর ওয়েব ব্রাউজারটি ছবিসহ অন্যন্য প্রয়ােজনীয় ফাইলের জন্য আবেদন পৌঁছে দেয়।

ওয়েব সার্ভার থেকে আবেদনকৃত ফাইলসমূহ পাবার পর ওয়েব ব্রাউজারটি এইচটিএমএল, সিএসএস ও অন্যান্য ওয়েব ল্যাঙ্গুয়েজ অনুযায়ী পাতাটিকে স্ক্রীনে সাজিয়ে ফেলে। অধিকাংশ ওয়েব পাতাগুলােতে নিজস্ব হাইপারলিংক থাকে যাতে এই সম্পর্কিত অন্যান্য পাতা এবং ডাউনলােডসহ অন্যান্য প্রয়ােজনীয় লক্ষ্য নির্দেশিত থাকে। এই প্রয়ােজনীয় ও পরস্পর সংযুক্ত হাইপারলিংকগুলাের সমষ্টিই ওয়েব নামে পরিচিত। টিম বার্নার্স-লি সর্বপ্রথম একে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব নামে নামকরণ করেন।

ওয়েব সার্ভারের ইতিহাস


১৯৮৯ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় কর্মরত অবস্থায় স্যার টিম বার্নার্স-লি ওয়ার্লর্ড ওয়াইড ওয়েব তৈরি করেন। সেটা থেকে শুরু করে ওয়েবের উন্নতি সাধনে তিনি গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরিতে ভূমিকা রাখেন যার মাধ্যমে ওয়েবপেজ অলংকরণ বা কম্পােজ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সেমান্টিক ওয়েব তৈরিতেও উৎসাহ প্রদান করেছেন। আজকের ওয়েব পদ্ধতি থেকে এটি অনেকটা আলাদা হলেও এদের ভিতরে যথেষ্ট মিল আছে। ১৯৮৯ সালে টিম বার্নার্স-লি এনকোয়ার সহ আরাে বিশদ একটি তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রস্তাবনা করেন। রবার্ট কাইলিয়াউ এর সহায়তায় ১৯৯০ সালের ১২ নভেম্বর তিনি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের আরাে আনুষ্ঠানিক একটি প্রস্তাবনা প্রদান করেন।

Leave a Comment