ওযুর সঠিক সহীহ নিয়ম ও দোয়া । ওযুর সুন্নাত ও ওযুর ফরজ কয়টি Ozur Niyom Bangla

ওযুর সঠিক সহীহ নিয়ম ও দোয়া । ওযুর সুন্নাত ও ওযুর ফরজ কয়টি Ozur Niyom Bangla

অযু করার নিয়ম

অযু আরম্ভকালে প্রথমে মনকে আল্লাহর দিকে রুজু করবে। অযুর কাজগুলাে অযু করার শর্তমােতাবেক (অযুর ফরয, সুন্নাত ও মুস্তাহাব) যথাযথভাবে তরতীব ও আন্তরিকতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে। | অপেক্ষাকৃত উচু জায়গায় বসবে যেন অযুর পানির ছিটা নিজের উপর আসতে না পারে। তারপর অযুর নিয়্যাত করে “বিস্মিল্লাহ” বলে অযু শুরু করবে। সর্বপ্রথমে উভয় হাতের কজি পর্যন্ত তিনবার ধুবে। তারপর গড়গড়ার সহিত তিনবার কুলি করবে এবং মিসওয়াক করবে। যদি মিসওয়াক না থাকে, তবে হাতের আঙুল দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করবে।

তারপর পানি দিয়ে তিনবার নাক সাফ করবে। তারপর তিনবার মাথার চুলের গােড়া হতে থুতলি পর্যন্ত এবং এক কানের লতি হতে অন্য কানের লতি পর্যন্ত মুখ ভাল করে উভয় হাত দিয়ে ধুবে।

অতঃপর কনুইসহ প্রথমে ডান পরে বাম হাত তিনবার ধুবে।

তারপর সমস্ত মাথা একবার মাছেহ করবে। শাহাদাত আঙুল দিয়া কানের ভিতর দিক এবং বৃদ্ধা আঙুল দিয়া বাহিরের দিক মাছেহ করবে। এবং হাতের আঙুলের পিঠের দিক দিয়া ঘাড় মাছেহ করবে। কান মাছেহ করার জন্য নতুন পানি লওয়ার প্রয়ােজন নেই; মাথা মাছেহ করার জন্য ভিজান হাত দ্বারাই মাছেহ করবে।

অতঃপর গিরাসহ প্রথমে ডান ও পরে বাম পা ভাল করে ডলিয়া মলিয়া ধুবে। এ সময় বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙুলি দ্বারা ডান পায়ের কনিষ্ঠা আঙুলি হতে শুরু করে বাম পায়ের কনিষ্ঠা আঙুলিতে শেষ করবে।

এ হলাে অযু করার নিয়ম



অযুর নিয়্যাত : নিয়্যাত দিলের কাজ। অন্তরে নিয়্যাত করা ফরয। অন্তরে নিয়্যাত থাকলেই নিয়্যাত হয়ে যায়, তবে মুখে বলা মুস্তাহাব/ভাল। নিয়্যাত আরবীতে বা বাংলাতে উভয়ে করা যেতে পারে।


যে উদ্দেশে অযু করা হবে সেদিকে মন স্থির করে অযুর নিয়্যাত করতে হবে। যেমন :

১.আমি পাক-পবিত্র হয়ার জন্য অযু করতেছি ।

২.আমি পাক-পবিত্র হয়ার জন্য এবং নামায পড়ার জন্য অযু করতেছি।।

৩.আমি কুরআন শরীফ পড়ার জন্য অযু করতেছি, ইত্যাদি। অযুর ভিতরে/শেষে পড়ার দোয়া (মুস্তাহাব)


বাংলা উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মাজ আলনী মিনাত্ তাওয়াবীনা ওয়াজ আলনী মিনাল মুতাহিরীন। (তিরমিজি-১/৭৮)।

বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে দাও।


২. কলেমা শাহাদত ও আশহাদু আল্ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান, আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।

(অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচিছ যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তার কোন শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচিছ যে। মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর বান্দা ও রসূল।)

৩. অযুকালে দুরূদ শরীফ পাঠ করা মুস্তাহাব।



অযুর সুন্নাত : 

১. অযুর নিয়্যাত করা।

২. ‘বিসমিল্লা’ পড়ে অযু শুরু করা, শুরুতে বিসৃমিল্লাহ পড়ার কথা স্মরণ না থাকলে অযুর মাঝে পড়ে নেয়া মুস্তাহাব।

৩. মিসওয়াক করা।।

৪. দুই হাত কবজি পর্যন্ত তিনবার ধােয়া। কনুইসহ দুই হাত ধােয়ার সময় দুই হাতের কবজি পুনরায় ধােয়াও সুন্নাত।

৫. মুখ ভরে কুলি করা। ৬. নাকের ভেতর পানি পৌঁছে দেয়া।। ৭. ঘন দাড়ি খিলাল করা। ৮. হাত পা ধােয়ার সময় আঙ্গুলসমূহ খিলাল করা। ৯. একবার সমস্ত মাথা মাসেহ করা।। ১০. উভয় কান মাসেহ করা। ১১. গর্দান মাসেহ করা। ১২. অযুর প্রতিটি অঙ্গ (মুখ, হাত ও পা) তিনবার ধােয়া। ১৩. এক অঙ্গ ধােয়ার পর অন্য অঙ্গ ধুতে দেরী না করা। ১৪. অযুর অঙ্গসমূহ উত্তমরূপে ঘষে-মেজে ধৌত করা।

১৫. অযুর অঙ্গসমূহ ধারাবাহিকভাবে ধােয়া। অর্থাৎ প্রথমে মুখ, তারপর হাত, তারপর মাথা মাসেহ, অতঃপর পা ধােয়া।

 

Leave a Comment