খুরুজ নিহায়ী/ এক্সিট কি? খুরুজে গেলে আবার সৌদিতে আসা যাবে কি?

= খুরুজ অর্থ হল বের হওয়া, খুরুজ নিহায়ী অর্থ একেবারে বের হয়ে যাওয়া অর্থাৎ ফাইনাল এক্সিট।
খুরুজ নিহায়ী হল একেবারে দেশে চলে যাওয়া আর খুরুজ আওদা হল এক্সিট রি-এন্ট্রি ভিসা যা দিয়ে সৌদি থেকে বের হয়ে পূনরায় সাউদিতে প্রবেশ করা যায় অর্থাৎ ছুটিতে যাওয়ার জন্য যে ভিসা দেয়া হয়।

কোন কর্মী সৌদি আরব হতে ছুটিতে অথবা একেবারে চলে যেতে হতে হলে খুরুজ আওদা অথবা খুরুজ নিহায়ী ভিসা নিয়ে সৌদি আরব ত্যাগ করতে হয়। পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী এই খুরুজ আওদা এবং খুরুজ/ এক্সিট ভিসা একমাত্র কফিলই দিতে পারতো। নতুন আইন অনুযায়ী কর্মী অনলাইন কন্ট্রাক্টে নিবন্ধিত হলে কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী ছুটির সময় হলে কিংবা চুক্তি শেষ হলে নিজেই নিজের ভিসা ইস্যু করতে পারবে। কফিল খুরুজ দিলে / নিজে খুরুজ ভিসা ইস্যু করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সৌদি ত্যাগ করতে হয়।

খুরুজ নিহায়ী ভিসা প্রাপ্তির পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সৌদি ত্যাগ না করা আইনত অপরাধ, এবং তিনি আইন অমান্যকারী ভায়োলেটর/ মুখালেফ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এই অবৈধ হিসেবে সৌদি ত্যাগ করলে পরবর্তীতে আর কখনো সৌদিতে আসা যাবেনা।

ইদানীং অনেকেই প্রশ্ন করেন “ভাই, আমি তো খুরুজে দেশে এসেছিলাম। আমি কি আবার সৌদিতে আসতে পারবো?”

সাধারণত কেউ বৈধভাবে সৌদি ত্যাগ করলে পুনরায় সৌদিতে তার প্রবেশে কোন বাধা নেই । তবে নিচের কোন একটি যদি ঘটে থাকে তাহলে সৌদিতে বৈধভাবে প্রবেশ করা যাবেনা:
১। কফিল হুরুব দিয়ে থাকলে। হুরুব দেয়ার পর সফর জেল হয়ে যান অথবা দূতাবাসের সুপারিশ পত্র নিয়ে কিংবা জাওয়াযাতের লোক ধরে এক্সিট লাগিয়ে বাইরে দিয়েই যেভাবেই যান । একবার হুরুব দিলে এবং বৈধ উপায়ে মাকতাব আমলের মাধ্যমে হুরুব ক্যান্সেল না হয়ে থাকলে যে উপায়েই যান আর ফেরা যাবেনা।
২। যেকোন কারণে ডিপোর্ট ( সফর জেল হয়ে গেলে) হলে। যেমন সবজি মামলা, কফিল ছাড়া কাজ করা, পানি বিক্রি মামলা, ভিক্ষাবৃত্তি , অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেয়া, ওমরা বা হজ্জে এসে থেকে যাওয়া ইত্যাদি নানা কারণে সফর জেল এর মাধ্যমে দেশে গিয়ে থাকলে।
৩। যেকোন মামলায় সাজা খেটে দেশে গিয়ে থাকলে। যেমন ফরজারি মানে কাগজপত্র জালিয়াতি, চুরি-ছিনতাই, মারামারি, মাদক, অসামাজিক কার্যকালাপসহ ষাট দিনের বেশি সাজা খেটে দেশে ফেরত গিয়ে থাকলে।
৪। আদালত কর্তৃক যেকোনো কারণেই ডিপোর্ট অর্ডার দেয়া হলে।

উপরোক্ত কারনে কাউকে দেশে ফেরত পাঠালে ভায়োলেটর/ মুখালেফ তথা আইন ভংগকারী হিসেবে দেশে পাঠায়, এবং তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি ভায়োলেশন নম্বর বরাদ্ধ করে যা ৯০০ দিয়ে শুরু হয়।

অনেকেই বিভিন্ন সময়ে বলেন আমার কফিল এক্সিট দিয়েছে, আমি সফর জেল হয়ে আসিনি। দেশ থেকে নতুন ভিসা নিয়ে আসার সময় এয়ারপোর্টে আটকে দিয়েছে এবং দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। পরে যখন বিস্তারিত জানা যায় তখন দেখা যায় যে কফিল আগেই হুরুব দিয়ে রেখেছিল যা সে জানেই না। পরে কফিল কোন মাধ্যম ধরে জাওয়াযাত হতে এক্সিট ভিসা ইস্যু করে দিয়েছে। মূলত তার হুরুব ছিল কিন্তু সে জানতো না। অথবা সে জানতো, কিন্তু সে মনে করতো সফর জেল হয়ে দেশে না গেলেই পূনরায় আসতে কোন বাধা নেই। কারন দালাল তাকে এটাই শিখিয়েছে এবং বলেছে আমি সব ক্লিয়ার করে এক্সিট লাগিয়ে এনেছি, কোন সমস্য নেই।

মোটকথা ভায়োলেটর হিসেবে সৌদি ত্যাগ করলে আর কখনওই সৌদিতে কাজের জন্য বৈধভাবে ভিসা নিয়ে প্রবেশ করা যাবেনা। পূর্বে ক্ষেত্রবিশেষে যদিও তিন বছর বা পাচ বছর পর প্রবেশের আইন ছিল কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী আর কখনওই প্রবেশ করতে পারবেনা।
এছাড়াও যেকোন দেশের ইমিগ্রেশনের অধিকার আছে বিদেশী কাউকে প্রবেশ করতে না দেয়া, সেটা যেকারণেই হোক (যা আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে)।

আরেকটি কথা, সম্প্রতি স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রাম এর আওতায় (হুরুব প্রাপ্তরা ছাড়া) ইকামা এক্সপায়ার হয়ে যাওয়া যে সমস্ত কর্মীরা মাকতাব আমলের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ওয়াফেদীন হতে এক্সিট ভিসা নিয়ে দেশে গেছেন তাদের পূনরায় সৌদিতে আসতে কোন বাধা নেই।

এছাড়া কফিল কর্তৃক প্রদত্ত খুরুজ আওদা/ এক্সিট রি এন্ট্রি ভিসা নিয়ে দেশে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ছুটির মেয়াদ থাকতে থাকতে ফিরে না আসলে নতুন ভিসায় অন্য কফিলের কাছে তিন বছর পর্যন্ত আসা যাবেনা। তিন বছর পর আসা যাবে। তবে নতুন ভিসা নিয়ে পূর্বের কফিলের কাছে যেকোন সময় আসা যাবে।

সর্বোপরি আপনি যদি পূনরায় সৌদিতে আসতে চান তাহলে যাওয়ার পূর্বেই বৈধভাবে সৌদি ত্যাগ করছেন কিনা তা নিশ্চিত হয়ে যান। আর দেশ থেকে আসতে হলেও নিজের সন্দেহ হলে কাউকে দিয়ে যাওয়াজাত হতে চেক করিয়ে কনফার্ম হয়ে আসুন।

আশা করি ক্লিয়ার করতে পেরেছি।

মো: মামুনুর রশিদ
রিয়াদ, ১৮/৩/২০২১

labor_education #শ্রমআইন #শ্রমআইনশিক্ষা #আইনজানিনিরাপদথাকি

সৌদিশ্রমআইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *