গার্লফ্রেন্ডের সাথে মিট গল্প

গার্লফ্রেন্ডের সাথে মিট করতে যাচ্ছি। অনেক দিন হলো, তানিয়ার সাথে দেখা হয়না। ইদানিং তানিয়ার ফোনে যখনই ফোন দেই, তখনই বিজি পাই। জিগ্গেস করলেই বলে, বান্ধবী-আত্মীয়ের কথা।

বাসা থেকে বের হয়ে, তানিয়াকে ফোন দিলাম…..

— হ্যালো বেবি, আমি বের হয়েছি। তুমি বের হতে দেরি করো না।

— আরে না না, আমি আজ আসতে পারব না। তুমি এসো না।

— কি বলো এসব। কালকে তো বললা আসবা!

— খুব জরুরি একটা কাজ আছে। আমি আজ আসতে পারব না।

— আমি তো অর্ধেক রাস্তা আইসা পড়ছি।

— তুমি বাসায় চলে যাও।

— তাহলে তো হইলনা….

— কি হইলনা?

— তোমাকে গিফ্ট করব বলে, ডায়মন্ড এর রিং আনছিলাম। এটা যদি বাসায় নিয়ে রেখে দেই, তুমি তো আমার ছোট বোনকে চেন, ওর হাতে পড়লে আর পাব না।

— আরে জান, আমি তো ইয়ার্কি করছিলাম। পরীক্ষা করে দেখলাম, আমি না আসলে, আমার বাবুটা কেমন মন খারাপ করে। আমি আসতেছি বাবু।

ফোন রেখে দিলাম। ২০ মিনিটের মধ্যেই পৌছে গেলাম, যেখানে তানিয়ার সাথে দেখা করব।

বসে আছি “আয় খাই রেস্টুরেন্ট”-এ। কিছুক্ষন পরই তানিয়া হাপাতে হাপাতে চলে আসছে।

আমি বললাম, কি ব্যাপার! তুমার এ অবস্থা কেন? ঘেমে নেয়ে গেছ, আর হাপাচ্ছ কেন?

তানিয়া হাপাতে হাপাতে বলল,
“আরে, রিক্সা নিয়ে আসতেছিলাম, জ্যামে আটকা পড়ে যাই। তাই রিক্সা থেকে নেমে দৌড়াই আসছি।”

খাবার অর্ডার করলাম। টুক টাক কথা হচ্ছিল। এরই মধ্যে খাবার এসে গেছে।

তানিয়া বলল, ‘জান, আমি ভাবতেই পারছি না! তুমি আমায় এত লাভ করো। লাভ ইউ জান’

আমি বললাম, ‘এটা রেস্টুরেন্ট, চুপচাপ খাও।’

খাবার শেষ হতেই তানিয়া বলল,
“জান আমার গিফ্ট কই, দাও।”

আমি বললাম, ‘এটা কি গিফ্ট দেওয়ার জায়গা! চলো কোন পার্কে গিয়ে বসি।”

৪৬০ টাকা বিল আসছে। তানিয়া আমাকে বিল দিতে দিল না। তানিয়া ৫০০ টাকার নোট দিয়ে বলল, বাকি ৪০ টাকা টিপছ।

আমি অবাক হয়ে গেলাম, তানিয়ার সাথে দুবছর ধরে রিলেশন। কোনদিন ১০ টাকার বাদাম কিনেও বিল দেয়নি, সে আজ ৫০০ টাকা দিয়ে দিল।

রিক্সায় করে পার্কে আসার পথে, তানিয়া বেশ কয়েকবার আমাকে জরিয়ে ধরল। রিক্সা ভাড়াও আমাকে দিতে দিল না। ৩০ টাকা রিক্সা ভাড়া। তানিয়া রিক্সাওয়ালাকে ৫০ টাকা দিয়ে বলল, বাকী ২০ টাকা তোমার বকসিস।

বুঝতে পারলাম, কোন কারনে হয়ত তানিয়ার মন আজ ভালো।

পার্কের ছোট এক বেঞ্চিতে বসে আছি। তানিয়া আমার কাধে মাথা রেখে আদুরে গলায় বলল,
“কই আমার গিফ্ট? দাও।”

আমি বললাম, ‘কিসের গিফ্ট!’

তানিয়া চমকে উঠারর মতো করে বলল,
‘আরে, বললা না, ডায়মন্ডের রিং আনছ আমার জন্য!”

আমি মৃদু এক হাসি দিয়ে বললাম, ‘ধুর, আমি তো ইয়ার্কি করছিলাম।’

তানিয়া এবার তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বলল,
“কি! তুই আমার সাথে ইয়ার্কি করস। ছোট লোক, লম্পট, চরিত্রহীন। তোর চেয়ে রাকিব অনেক ভালো। হায় গড এটা কি হইল, রাকিবের দেয়া ৫০০ টাকা রেস্টুরেন্ট বিল দিয়া দিলাম। এখন আমার হাত খরচ কেম্নে চলব। বলেই কান্না করতে লাগল।”

পার্কের সবাই আমাদের দিকে চেয়ে আছে। মনে হচ্ছে, তারা কোন বাংলা মুভির শুটিং দেখছে।

আমি বললাম, ”তানিয়া, আমি তো মজা করছিলাম। সত্যি তোমার জন্য ডায়মন্ড এর রিং আনছি। দাড়াও এখনই দিচ্ছি।”

তানিয়া কান্না থামিয়ে আমার দিকে চেয়ে আছে। কি বলবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না মনে হচ্ছে।

তানিয়া টেনে টেনে বলল,
“শোন বাবু, আমার না কয়দিন ধরে মাথা ঠিক নাই। উল্টা-পাল্টা বলি। আমি রাকিবকে চিনি না। কে রাকিব? জান বিশ্বাস করো, আমি তুমাকেই লাভ করি।”

আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, বিশ্বাস করছি। চলো লেকের ধারে গিয়ে বসি। এখানে সবাই তাকিয়ে আছে।”

লেকের পাড়ে বসেই তানিয়াকে বললাম, “বেবি চোখ বন্ধ করো। তুমার গিফ্টটা দিয়ে দেই।”

তানিয়া আমাকে জরিয়ে ধরে বলল, জান তুমি এত রোমান্টিক আগে বুঝিনি।

তানিয়া চোখ বন্ধ করল….

আমি তানিয়াকে পেছন থেকে লাথি মেরে লেকের জলে ফেলে দিলাম।

সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কি হলো, কেউ বুঝতে পারেনি বোধ হয়।

সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললাম,
“জীবন থেকে কেউ চলে যেতে চাইলে, তাকে ঠিক এইভাবে পেছন থেকে লাথি মেরে সামনের দিকে আগাই দিতে হয়।”

চলিতেছে_সার্কাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *