জান্নাতের হুর পুরুষের যৌবন ও একাধিক স্ত্রী । Jannate Purusder Neyamot

জান্নাতের হুর পুরুষের যৌবন ও একাধিক স্ত্রী । Jannate Purusder Neyamot


বেহেশতের গিলমান বা কিশাের বালক 

বেহেশতীগণের সেবার জন্য আল্লাহ তাআ’লা চিরকিশাের বালক সৃষ্টি করে রেখেছেন, যারা সর্বদা বেহেশতীগণের সেবায় নিয়ােজিত থাকবে। এ প্রসঙ্গে কোরআন মজীদের সূরা তূরে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ 

“তাদের সেবার জন্য এমন সব চিরকিশাের বালক তাদের কাছে ঘােরাফেরা করবে, যাদেরকে মনে হবে যেন সুরক্ষিত মােতি বিশেষ। সূরা তুর- ১ম রুকু।

বেহেশতীদের জন্য আল্লাহ তাআ’লা স্ত্রীরূপে বহু হুর সৃষ্টি করে রেখেছেন। তারা মহিলা হলেও মানুষের ন্যায় তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়নি বরং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে নিজ কুদরতে সৃষ্টি করেছেন। এমনিভাবে বেহেশতীদের সেবার জন্য আল্লাহ গিলমান ও বিলদান সৃষ্টি করে রেখেছেন, যারা সর্বদাই চির কিশাের থাকবে। এরাও সম্পূর্ণ নতুন সৃষ্টি, যাদের জন্ম মানুষের সৃষ্টির ন্যায় হয়নি বরং তাদেরকেও আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতে সৃষ্টি করেছেন।

বিলদান হচ্ছে হুরের অনুরূপ আল্লাহ তাআলার স্বতন্ত্র সৃষ্টি। এদেরকে সেবক বানাবার মূলে রয়েছে তাদের দ্বারা বেহেশতীদের যৌনস্পৃহা ছাড়া অন্যান আনন্দ দান করা। সূরা তুরে গিলমানদের সুরক্ষিত মােতির সাথে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ ঐ সব বালক সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতায়, রূপে, রংয়ে ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় এমন মােতির ন্যায় হবে যা ঝিনুকের মাঝে সুরক্ষিত থাকে, ধুলাে ময়লা তাকে স্পর্শ করাে না। অর্থাৎ এরা হবে ছড়ান-ছিটান মােতির ন্যায়। কেননা তারা সেবার এ কাজে সর্বত্র ঘােরাফেরা করতে থাকবে

বেহেশতের পবিত্র স্ত্রীগণ

কোরআন মজীদের সূরা আল এমরানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন ঃ “যারা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে এমন বেহেশত, যার তলদেশে ঝর্ণাসমূহ প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। আর সেখানে রয়েছে তাদের জন্য পবিত্রতম স্ত্রীগণ, ও আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাআলা আপন বান্দাগণকে দেখছেন।”-সূরা আলে ইমরান- ২য় রুকু ।


বেহেশতের স্ত্রীগণ জাহেরী ও বাতেনী সর্বপ্রকার দোষ হতে মুক্ত ও পবিত্র থাকবে। তাদের থুথু আসবে না। তাদের পায়খানা-পেশাবের প্রয়ােজন দেখা দেবে না। তাদের মনি, হায়েজ, ও নেফাছও নির্গত হবে না । তাদের দেহ ও কাপড় কখনাে ময়লা হবে না। বাহ্যিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি তাদের অভ্যাস, চরিত্র ও আচার-আচরণও হবে অত্যন্ত শালীন-মার্যিত। তারা মনে-প্রাণে স্বামীদের জন্য নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকবে। তাদের মধ্যে লেশমাত্র অবাধ্যতাও থাকবে না। তাদের মধ্যে কটুবাক্য নিক্ষেপ, ধোকা, প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতার লেশমাত্র থাকবে না। দুনিয়ার যেসব মহিলা ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করবে, তারা হবে বেহেশতের মুমিন পুরুষদের স্ত্রী। তাদের ছাড়াও পুরুষগণকে পরমা সুন্দরী হুরগণকে দেয়া হবে।উভয় শ্রেণীর স্ত্রীগণই সৌন্দর্য, রূপমাধুরী, মনভুলানাে ও জাহিরী-বাতেনী সর্বপ্রকার গুণে হবে গুণান্বিত। প্রেম-ভালবাসার তরঙ্গমালা থাকবে তাদের মধ্যে উথিত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় এবং পুরুষের মন ভুলাতে তারা হবে অদ্বিতীয়।

বেহেশতী স্ত্রীদের সৌন্দর্য ও রূপমাধুরী
কোরআন মজীদের সূরা ওয়াকেয়ায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
“ঐসব মহিলাকে আমি বিশেষ নিয়মে সৃষ্টি করেছি। তাদেরকে সৃষ্টি করেছি চিরকুমারী সােহাগিনী করে, আমলনামা ডান হাতে প্রাপ্ত লােকদের জন্য।”


দুনিয়ার মুমিন নারীগণ যে অবস্থায় ও যে বয়সেই মৃত্যুবরণ করুক না কেন, বেহেশতে তাদেরকে নয়নাভিরাম যুবতী ও কুমারী নারীতে পরিণত করা হবে । আর বেহেশতের সৌন্দর্য ও রূপমাধুরী দ্বারা তাদেরকে করা হবে সুরোভিত।


বেহেশতে সমস্ত পুরুষের বয়স হবে। ত্রিশ কি বত্রিশ বছর। অনুরূপভাবে তাদের স্ত্রীগণও হবে তাদের সমবয়সী। গঠন প্রকৃতি ও বয়সে হবে তারা পুরুষের সমতুল্য। উভয়ের মন থাকবে উভয়ের প্রতি আকৃষ্ট। দুনিয়ায় পুরুষরা নিজেদের বয়সের চেয়ে কম বয়সী মহিলাদেরকে পছন্দ করে। কেননা কম বয়সী মহিলাদের মধ্যে রূপ-সৌন্দর্য ও প্রেম-প্রীতির আকর্ষণ থাকে বেশি। বেহেশতের মহিলাগণ দুনিয়ার মুমিন মহিলা হােক বা বেহেশতের হুর হােক, তাদের মধ্যে থাকবে রূপ-সৌন্দর্য ও প্রেম-প্রীতির মাধুরিমা ষোল কলায় পরিপূর্ণ। এ কারণে সমবয়স হওয়া প্রেম-প্রীতি নিবেদনের পথে বাধা নয় বরং সমবয়সী হওয়াটা অধিক ভালবাসা ও প্রেম-প্রীতি সৃষ্টি হওয়ার কারণ। স্বামী স্ত্রী উভয়ে থাকবে সন্তানশূন্য, আর বৃদ্ধাপনা হতেও তারা থাকবে নিরাপদ। সর্বদাই তারা মধ্য বয়সী থাকবেন। 


জান্নাতের মহিলা কেমন হবে ?

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, বেহেশতী মহিলাদের পায়ের নলার ঔজ্জ্বল্য সত্তর পাল্লা পর্দার ভেতর থেকেও পরিদৃষ্ট হবে। এমনকি নলার ভেতরের মাংসপিণ্ডও দেখা যাবে।বেহেশতী মহিলাগণ এতটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হবে, মনে হবে যেন, তারা ইয়াকুত ও মারজান পাথর। অতঃপর তিনি বলেন, ইয়াকুত এমন এক পাথর তুমি যদি তার ভেতরে একটি মােতি প্রবেশ করাও তাহলে পাথরের বাইর থেকেই তা দেখতে পাবে। -তিরমিযী ।


জান্নাতের হুর  কেমন হবে ?

ঢুলু ঢুল নয়ন বিশিষ্ট হুর 
হুর’ শব্দটি বহুবচন। হুর বলা হয় সে সব বেহেশতী নারীকে, যাদের নয়নের শুভ্রতা ও কৃষ্ণতা খুব গভীর। এরা হবে দুনিয়ার মুমিন স্ত্রীদের অতিরিক্ত। সূরা দুখানে আল্লাহ তাআ’লা বলেন, আমি ঢুলু ঢুলু নয়নবিশিষ্ট হুরদেরকে তাদের সাথী করব।

আল্লাহ বলেন, “বেহেশতের মহলসমূহে থাকবে সূচারিণী পরমা সুন্দরী মহিলা। অতএব তােমরা তােমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নেয়ামতকে অস্বীকার করবে? সেখানে আছে তাঁবুতে সুরক্ষিত হুর। অতএব তােমরা তােমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নেয়ামতকে অস্বীকার করবে? সে হুরদেরকে পূর্বে কোন মানুষ স্পর্শ করেনি- করেনি কোন জিন স্পর্শ। অতএব তােমরা তােমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?”

বেহেশত ও তার অন্যান্য নেয়ামতসমূহ যেমন বর্তমান, তেমনি হুরগণও বর্তমান। হাফেজ মুন্যারী (র) আত্তারগীব অতুতারহীব গ্রন্থে উম্মুল মুমেনীন হযরত উম্মে সালমা (রা) থেকে এক দীর্ঘ হাদীস উল্লেখ করেছেন। তাতে উল্লেখ আছে যে, সালমা (রা) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! বেহেশতে মুমিন নারীগণ শ্ৰেষ্ঠ হবে, না হুরগণ? নবী করীম (সঃ) বললেন, বেহেশতে মুমিন নারীগণ হুরদের অপেক্ষা এতটা শ্রেষ্ঠ হবে, যেমন নীচের কাপড়ের তুলনায় উপরের কাপড়টি শ্রেষ্ঠ হয় ।


বেহেশতে আয়তলােচনা হুরদের গান
খলিফাতুল মুসলেমীন হযরত আলী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, বেহেশতে আয়তলােচনা হুরদের সমবেত হওয়ার একটি স্থান রয়েছে। সেখানে তারা সমস্বরে উচ্চকণ্ঠে বলে, আমরা অবিনশ্বর ও চিরস্থায়ী, কখনাে আমরা ধ্বংস হব না। আমরা সর্বদাই সুখ-শান্তিতে থাকব। কখনাে অভাবী ও মুখাপেক্ষী হব না। আমরা আমাদের স্বামীদের প্রতি সর্বদা খুশী থাকব। তাদের প্রতি কখনাে অসন্তুষ্ট হব না। যারা আমাদের জন্য এবং আমরা যাদের জন্য, তাদের ব্যাপারে আমাদের বলার কিছু থাকতে পারে না। (তারা এ গানটি এমন চিত্তাকর্ষক সুরলহড়ীতে গায় যে) এমন সুর সৃষ্টিকুলের মধ্যে কেউ কখনাে শুনেনি। –তিরমিযী, মেশকাত ।


বেহেশতী পুরুষদের জন্য একাধিক স্ত্রী
বেহেশতে একজন পুরুষ কতজন স্ত্রী লাভ করবে সে সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের হাদীস বিদ্যমান। সহীহুল বােখারীতে উল্লিখিত এক হাদীসে আছে, বেহেশতের প্রত্যেক পুরুষ স্ত্রীরূপে দু’জন করে আয়তলােচনা হুর লাভ করবেন। মুসনাদে আহমদ গ্রন্থ থেকে এক হাদীস উল্লেখ করেছেন যে, একজন সাধারণ বেহেশতী ব্যক্তি দুনিয়ার স্ত্রী ছাড়াও বাহাত্তর জন স্ত্রী লাভ করবেন (তারা হবে আয়তলােচনা হুর)। সুনানে ইবনে মাজা গ্রন্থে এক হাদীসে উল্লেখ আছে, প্রত্যেক বেহেশতী। পুরুষ স্ত্রীরূপে আয়তলােচনা হুরদের থেকে বাহাত্তর জন এবং বাহাত্তর জন পার্থিব মহিলাদেরকে লাভ করবে।


সামগ্রিকভাবে এটাই জানা যায় যে, বেহেশতীদের অন্যান্য নেয়ামতের পাশাপাশি অনেক স্ত্রী লাভেরও সৌভাগ্য হবে। কেউ দু স্ত্রীর কম পেয়েছেন এমন হবে না। তবে সংখ্যার যে বিভিন্নতা পাওয়া যায়, তা আমলের তারতম্যের উপর নির্ভরশীল।


বেহেশতীদের যৌনক্ষমতা
বেহেশতীদের যেহেতু বিভিন্ন শ্রেণীর অনেক অনেক স্ত্রী হবে, সেহেতু তাদের যৌনক্ষমতা ও প্রতিক্রিয়ার শক্তিও বাড়িয়ে দেয়া হবে অনেক অনেক গুণ।

জনৈক ইহুদী রাসূলে করীম (সঃ)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, হে আবুল কাসেম। বেহেশতীগণ কি পানাহার করবে? নবী করীম (সঃ) বললেন, যার নিয়ন্ত্রণে আমার প্রাণ তার কসম! একজন বেহেশতী লােককে পানাহার এবং স্ত্রীদের সাথে রতিক্রিয়া করণের জন্য একশজনের যৌনক্ষমতা প্রদান করা হবে। দুনিয়ার জীবনে বীর্যপাতকালে যে পুলকতা-শিহরণ ও আমােদ অনুভূত হয়, বেহেশতে বীর্যপাত ব্যতিরেকেই শতগুণ বেশি পুলক, শিহরণ ও আমােদ অনুভূত হবে। বেহেশতের প্রতিটি বস্তু হবে। সেখানকার লোকদের চাহিদা অনুযায়ী। এ কারণে যত সময় ইচ্ছে তত সময় পর্যন্ত রতিক্রিয়ায় লিপ্ত থাকতে পারবে। আর যখন ইচ্ছে হয় তখন তা থেকে বিরত থাকতে পারবে।

 

Leave a Comment