দালাল ছাড়া ই-পাসপোর্ট আবেদন ও হাতে পাওয়ার অভিজ্ঞতা | Dalal Sara Passport

অবশেষে আজ পেলাম আমার কাঙ্ক্ষিত ই-পাসপোর্ট। নিচে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো –

ধাপ-১ঃ এপ্লিকেশন 
৫ ই অক্টোবর ইমেইল, নাম, এন আইডি নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে একাউন্ট তৈরি করি। তারপর এপ্লিকেশন ধীরেসুস্থে পূরণ করি, কিছু বিষয় কনফিউশান ছিল তাই একদিন সময় নিয়ে ভালভাবে যাচাই-বাছাই করে পরদিন ৬ ই অক্টোবর এপ্লিকেশন সাবমিট করে ফেলি। কিন্তু পরবর্তীতে নিজেই গ্রুপের অনেকের পোষ্ট কমেন্ট পড়ে বুঝতে পারি আমি দুটো জায়গায় ভুল করেছি। সেগুলো হলো
(১) নামের মধ্যে ডট (.) ব্যবহার করা ও 
(২) প্রফেশন বিজিনেস দেওয়া। 
এন আইডি তে ডট ছিল আর ই-পাসপোর্টের নিয়মাবলীতে ডট এর ব্যবহার নিয়ে কিছু লেখা ছিল না ওয়েবসাইটে, তবে এম আরপি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এর উল্লেখ ছিল যে ব্যবহার  করা যাবে না। বিজিনেস প্রফেশন দিয়েছি সেটা ঠিক ছিল কিন্তু এক্ষেত্রে প্রমানস্বরুপ ট্রেড লাইসেন্স লাগবে, যেটা আমার ছিল না, কাজেই এটাও আমার ভুল। তাই ঠিক করি প্রফেশন স্টুডেন্ট দিব, কেননা স্টুডেন্ট আইডি+প্রত্যয়নপত্র উভয়ই আছে।
ধাপ-২ঃ ব্যাংক পেমেন্ট 
১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট তাই ৫৭৫০ টাকা ব্যাংক এশিয়াতে পেমেন্ট করি ১১ অক্টোবরে, তারাও নামে ডট তুলে দিয়েছিল আর বলেছিল ডট দিলে আপনার পাসপোর্ট ও ভিসা উভয়তেই সমস্যা/হয়রানি হতে পারে। 
ধাপ-৩ঃ এনরোলমেন্ট
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অর্থাৎ এপ্লিকেশন কপি, সিডিউল/এপয়নমেন্ট কপি, ব্যাংক পেমেন্ট রশিদ, মূল এন আইডি কপি ও তার ফটোকপি নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে ১১ অক্টোবর হাজির হই, কিন্তু সেদিন স্যার ছুটিতে থাকায় ব্যাক করে আসতে হয়। এরপর ব্যস্ততার কারণে কিছুটা দেরিতে ২রা নভেম্বর পুনরায় পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হই, স্যারকে ভুলগুলোর কথা বলি, তিনি কম্পিউটার অপারেটরের সাথে দেখা করতে বলেন। সে বলে আজ সার্ভারে সমস্যা আপনি কাল আসুন। তাকে রিকুয়েষ্ট করায় ফর্মের ছবি তুলে বলে সার্ভার ঠিক হইলে আপনার কাজ করে দিব, কিন্তু সময় লাগবে। এরপর বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের পোস্ট থেকে জানতে পারলাম ভুল সংশোধন/ইডিট হতে ৭/২১ দিন সময় লাগে, তাই কিছুদিন অপেক্ষা করে ১৫ নভেম্বর পুনরায় যাই, তখন বলেন এপ্লিকেশন ক্যান্সেল করে দিচ্ছি, ক্যান্সেল হইলে পুনরায় এপ্লিকেশন করে উপস্থিত হতে। আবারও ফেসবুক গ্রুপ থেকে জানতে পারি ক্যান্সেল হতে সময় লাগে ১-২১ দিন, কিন্তু ২১ দিন পরও আমার ক্যান্সেল হয়না। এরপর ফেসবুকে অনেকের কাছে পরামর্শ নিয়ে জানতে পারি ক্যান্সেল হতে অনেক ঝামেলা, তাই তারা পরামর্শ দেয় এডি স্যারের কাছে এপ্লিকেশন নিয়ে যেতে। তাই এপ্লিকেশন সহ ২০ ডিসেম্বর এডি স্যারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি পরদিন বিকাল ৩টায় ডাকেন আগের এপ্লিকেশন সহ। ২১ ডিসেম্বর বিকেলে ৩টায় গেলে তিনি এনরোলমেন্টের সব ব্যবস্থা করে দেন। সেদিন আমার এন আইডি বায়োমেট্রিক চেক হয়, তারপর ছবি তোলা হয়, সিগ্নেনার গ্রহন, ফিঙ্গার প্রিন্ট ও আইরিশ/রেটিনা স্ক্যান করে। তারপর ডেলিভারি স্লিপ সহ বের হই৷ অনলাইনে চেক করে দেখি এপ্লিকেশন enrolment in process লেখা দেখাচ্ছে। পরদিন সকাল ১০টায় মেসেজ আছে এনরোলমেন্ট কমপ্লিটের। অনলাইনে চেক করে দেখি স্ট্যাটাস  enrolled, pending for approval. 
ধাপ-৪ঃ পুলিশ ভেরিফিকেশন 
২৫ ডিসেম্বর পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে এসে এস আই আমার এন আইডি, বাবা মার মুল এন আইডি, আমার স্টুডেন্ট আইডি, নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট, আমার এইচএসসি সার্টিফিকেট, বিদ্যুত বিলের কপি দেখতে চায়। সবকিছু আগে থেকে প্রস্তুত ছিল। তিনি সব চেক করে আমার এন আইডি এর ফটোকপি, বাবা মার এন আইডি এর ফটোকপি, ভার্সিটির প্রত্যয়নপত্র, বিদ্যুৎ বিলের কপি ও নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট সাথে নিয়ে নেয়। এগুলোর পর জিজ্ঞেস করেছিলাম আরকিছু লাগবে কিনা, তিনি বলেছেন শুধু “আমার ও আমার ফ্যামিলির জন্য দোয়া করলেই চলবে আর আপনার সব কাগজপত্র ঠিক আছে তাই আমি খুব শীঘ্রই আপনার পজিটিভ রিপোর্ট জমা দিব। আপনার আর কোন চিন্তা করতে হবে না।” শুনে অনেক ভালো লাগলো তার কথা।
ধাপ-৫ঃ উপসংহার 
৯ জানুয়ারি পুলিশ ভেরিফিকেশন এপ্রুভ হওয়ায় স্ট্যাটাস approved দেখায়, তারপর ১১ জানুয়ারি স্ট্যাটাস passport shipped হয়, তারপর ১৩ জানুয়ারি মেসেজ আসে পাসপোর্ট রিসিভ করার জন্য এবং স্ট্যাটাস passport received দেখায়। অবশেষে সময় করে আজ গিয়ে পাসপোর্ট গ্রহণ করি। গ্রহন করতে ডেলিভারি স্লিপ, এন আইডি কার্ড আর ফিংগার লাগছিল। পাসপোর্ট গ্রহনের সাথে সাথে ফোনে মেসেজ আসে আর স্ট্যাটাস passport issued হয়ে যায়। 

মন্তব্যঃ কিছুটা ঝামেলা পোহাতে হলেও কোন প্রকার দালালের প্রয়োজন পড়ে নি আর মোটেও ইচ্ছে ছিল না, এমনকি পুলিশ ভেরিফিকেশন এও কোন প্রকার খরচ করতে হয়নি। কাজেই অতিরিক্ত অর্থ/ঘুষ ছাড়াই আজ পাসপোর্ট হাতে পেলাম। 

পরামর্শঃ পাসপোর্টের ফরম পূরণ করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফরম পূরণের সময় সব তথ্য সঠিক দিন, আর দেখুন যা তথ্য দিচ্ছেন তার প্রমানাদি ঠিকমতো আছে কিনা। সঠিকভাবে ফরম পূরণ করলে কোন ঝামেলা ছাড়াই সময়মত নির্দিষ্ট টাইমে দালাল/ঘুষ ছাড়াই আপনার কাঙ্ক্ষিত ই-পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন আশাকরি।

ফরম পূরণের পর যেসব কাগজ রেডি রাখবেন/যা লাগবে –
(১) পুরনকৃত অনলাইন ফরম
(২) অনলাইন সিডিউল/এপয়নমেন্ট কপি
(৩) ব্যাংক পেমেন্ট স্লিপ
(৪) মুল এন আইডি/জন্ম নিবন্ধনের কপি ও তার ফটোকপি 
(৫) পূর্ববর্তী পাসপোর্ট (যদি থাকে)
(৬) নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট 
(৭) প্রফেসন যা দিবেন তার প্রমানাদি (স্টুডেন্ট দিলে প্রত্যয়নপত্র+স্টুডেন্ট আইডি, ব্যবসা দিলে তার ট্রেড লাইসেন্স, চাকুরী দিলে সেটার কাগজ)
(৮) ঠিকানা যা দিবেন সেটার বিদ্যুৎ বিল/পানির বিল/আয়কর বিলের কপি, প্রয়োজন সাপেক্ষে দলিল/নামজারির কাগজ দেখতে চাইতে পারে
(৯) বাবা মার এন আইডি মূলকপি ও তার ফটোকপি 
(১০) স্বামী/স্ত্রীর বিয়ের কাবিননামা/সার্টিফিকেট, এন আইডি এর মুলকপি ও তার ফটোকপি (যদি বিবাহিত হোন)
[বিঃদ্রঃ এনরোলমেন্ট এর সময় ১-৫ নং প্রযোজ্য, ১-১০নং পুলিশ ভেরিফিকেশনে লাগতে পারে ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *