দুনিয়ার জীবন ড খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর

আমি এখনও প্রশ্ন পড়িনি, তবে আমার সামান্য অভিজ্ঞতায় যেটা বুঝি, ছোট খাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া, পরের দোষ ধরা, পরের ভুল প্রমাণ করার জন্য প্রশ্ন করা, এগুলোই বেশি করি।
কথাটা হলো ভাই, এই যে দুনিয়াতে আমরা বাস করছি, এই যে দেশের সমস্যা, দশের সমস্যা, মাসআলার সমস্যা, ঝগড়া-ঝাটি, পরিবারের সমস্যা, ছেলে-পেলের সমস্যা, ব্যবসার সমস্যা, সব থেকে যাবে।
এগুলো সব যথাযথ রেখে আমরা একেক জন একেক সময় চলে যাব। ঠিক না? এটাই তো বাস্তব? ঠিক না?

দুনিয়া নিয়ে চিন্তা করছি, বিশ্ব নিয়ে ভাবছি, দেশ নিয়ে ভাবছি, পরিবার নিয়ে ভাবছি, সব ভাবাভাবি থেকে যাবে, আমি থাকবো না, ঠিক না ভাই?

তো দূর্ভাগ্য ভাইয়েরা দুনিয়ায়  অনেক মানুষ গতানুগতিক চলে, কিছুই চিন্তা করেনা, গরু-ছাগলের মতো চলে।
আর যারা একটু চিন্তা করে তারা পরকে নিয়ে চিন্তা করে। নিজেকে নিয়ে ভাবেনা।

তো ভাইয়েরা একসময় যখন আমরা কবরে চলে যাব, ফেরেশতারা এসে আমাদেরকে, কে রফদাইন করত, কে মিলাদ করত, কে কোথায় গেল, কার বউ পর্দা করলনা, কেন করত না? এগুলোই তো জিজ্ঞেস করা হবে ঠিক না? হ্যা, এগোলুই তো জিজ্ঞেস করবে?

তো ভাইয়েরা বড় কষ্ট লাগে, আপনাদেরকে বলি, দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষ গতানুগতিক চলে, ভেড়ার মত চলে, সকালে ওঠে, রাত্রে ঘুমাই, খায়-দায়, কেন বেঁচে আছি নিজেও জানেনা, কেন মরে গেল তাও বোঝে না।
গুরুর বাচ্চা জন্মায়, জোয়াল কাঁধে নেয়, কসাই জবাই করে, শেষ!! ওর ক্ষিদে লাগে খায়, পায়খানা চাপে হাগে, কিন্তু ওর জীবন কি বুঝেনা।

আমরা #মানুষের_বাচ্চারাও অনেকে এরকম, ছোট বেলায় বড় হয়েছি, বিয়া-সাদি করেছি, বাজারে যায়, কেনইবা টাকা কামাই করি, এ টাকা রেখে কি হবে? কেনইবা বাজার করি? কেনইবা এলাম? কেনই বা গেলাম? কিছুই চিন্তা করেনা, এরকম মানুষ বেশি।
যারা একটু চিন্তা করার তৌফিক আল্লাহ দিয়েছেন তারা শুধু পরের ভুলগুলো চিন্তা করে ভাই। কি নিয়ে আমি আল্লাহর কাছে যাচ্ছি?

আমি কি করলাম? আমি কতটুকু নেক আমল করেছি? আল্লাহর সামনে কি দিব? আমার রবের সাথে, মালিকের সাথে সম্পর্ক কতখানি গভীর?? আমি কি আল্লাহর দরবারে হাত তুলে চোখে পানি আসে কিনা???
আমি কয় রাকাত তাহাজ্জুদ পড়েছি?
কয়টা আল্লাহর কাজ করতে পেরেছি?
কয়জন মানুষকে আল্লাহর কথা বলতে পেরেছি?
এই চিন্তা আমরা করিনা ভাই!

আমার কথা হলো ভাইয়েরা, এইভাবে শয়তানের পেছনে না চলে আসেননা সবাই নিজের চিন্তা করি।
যেটুকু সময় পায়, সারাদিন তো দোকানের চিন্তা করি, বাজারের চিন্তা করি, নিজের চিন্তা তো আর করা হলো না। এই ছেলেমেয়ের চিন্তা করতে করতে, বউয়ের চিন্তা করতে করতে,  জীবন শেষ হয়ে গেল, মরার পরে বউ আর আমার কথা মনে রাখবেনা, রাখবে ভাই?
আচ্ছা, একবেলা না খেয়েও থাকবেনা, আমার লাশ পরে থাকবে, তারা খাবে, ঠিক না ভাই?

নিজের জন্য  চিন্তা করা হলো না!
একটু সময় পেলে পরের জন্য দোষ চিন্তা না করে নিজেরটা চিন্তা করি ভাই। যে কি করলাম, কতটুকু নেক আমাল আল্লাহর জন্য করছি, কয় রাকাত নামায বুঝে পড়ছি, কয়টা দোয়া চোখের পানি দিয়ে করতে পেরেছি? কয়জন মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকতে পেরেছি?
এইটা চিন্তা করি,
কথা কি বুঝতে পেরেছেন ভাই?

শ্রতিলিখক : রাজু আহমেদ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *