দোজখ জাহান্নামের শাস্তি বিবরণ । Koborer Ajab Jahannam

 

দোযখে শাস্তির বিভিন্ন পদ্ধতি 
দোযখের আগুন, সাপ, বিচ্ছু, আগুনের তাপ, পানাহারের বস্তু, অন্ধকার ইত্যাদি সব কিছুই কঠোরতম শাস্তি। কিন্তু এখন পর্যন্ত যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, তা দোযখের শাস্তির খুবই ক্ষুদ্রতম অংশ। কোরআন-হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, শাস্তির এসব প্রকরণ ছাড়া আরাে অনেক প্রকরণ ও পদ্ধতি আছে, যা ব্যবহার করে শাস্তি দেয়া হবে। নবী করীম (সঃ) বলেছেন, নিঃসন্দেহে দোযখীদের মাথায় ফুটন্ত গরম পানি ঢালা হবে। আর তা উদরে পৌছে উদরে যা কিছু আছে তা খণ্ড-বিখণ্ড করে দেবে। অবশেষে তা পদযুগল দিয়ে বের হবে। আবার পুনরায় তাদেরকে অনুরূপ শাস্তি দেয়া হবে। 

লােহার মুগুডু দ্বারা পেটান হবে ? 
দোযখীদেরকে লােহার মুগুড় দ্বারা পেটান হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন : “তাদেরকে পিটাবার জন্য রয়েছে লােহার মুগুড়। যখনই তারা দোযখের কয়েদখানা হতে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে প্রত্যাবর্তন করানাে হবে আর বলা হবে, তােমরা আগুনের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে থাকে।” —সূরা হজ্ব ২য় রুকু।

দোযখীদের দেহের চামড়া আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হলে পুনরায় তাদের দেহে নতুন চামড়া সৃষ্টি করা হবে, যাতে সর্বদা শাস্তি পেতে থাকে। এ প্রসঙ্গে কোরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা বলেছেন ঃ “যখনই তাদের দেহের চামড়া সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যাবে, তখনই আমি নতুন চামড়া দ্বারা তা পরিবর্তন করে দেব, যাতে তারা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে পারে।” -সূরা নিসা- ৮ম রুকু।

দোযখীদেরকে আগুনের পাহাড়ের উপর চড়ান হবে
 এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ “আমি অতিসত্বর তাদেরকে সাউদ নামক আগুনের পাহাড়ে চড়াব।” | সূরা মুদ্দাছির ১ম রুকু। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, সাউদ হচ্ছে আগুনের একটি পাহাড়। তাতে দোযখীদেরকে সত্তর বছর পর্যন্ত রাখা হবে। অতঃপর সত্তর বছর পর্যন্ত সে পাহাড়ের উপর হতে তাকে নীচের দিকে গড়িয়ে নামান হবে। এভাবেই সর্বদা তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। বিশাল শিকল দ্বারা বাঁধা হবে । দোযখীদেরকে লােহার শিকল দ্বারা বাধা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন : “ফেরেশতাদেরকে আল্লাহ তাআলা বলবেন, ওদেরকে ধর এবং গলায় তােওক পরিয়ে দাও। অতঃপর তাদেরকে দোযখে প্রবেশ করাও। অনন্তর তাদেরকে এমন শিকল দ্বারা বেঁধে আবদ্ধ কর, যার পরিধি সত্তর গজ লম্বা।” -সূরা হাক্কাহু- ১ম রুকু। 

গলায় বেড়ি পড়ান হবে ? 
আল্লাহ তাআলা বলেন “আমি কাফেরদের জন্য লৌহ নির্মিত জিঞ্জির-তেঁওক ও জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি।” -সূরা দাহার- ১ম রুকু।
হযরত ইবনে আবু হাতেম বর্ণিত এক মরফুউ হাদীসে আছে, নবী করীম (সঃ) বলেছেন, কোন একদিক থেকে কালাে রংয়ের মেঘমালা উঠবে এবং দোযখীগণ তা দেখতে পাবে। তাদের কাছে জিজ্ঞেস করা হবে, তােমরা কি চাও? তখন দুনিয়ার কালাে মেঘমালার কথা তাদের স্মরণ হবে এবং তার উপর অনুমান করে তারা বলবে, আমরা এ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ চাই। তখন ঐ মেঘমালা হতে বেড়ি-জিঞ্জির ও আগুনের অঙ্গারের বর্ষণ হবে। সে আগুনের অঙ্গারে তারা দগ্ধ হবে এবং তাদের বেড়ি ও শৃঙ্খল আরও বৃদ্ধি ঘটবে। তাফসীরে ইবনে কাছীর।

গন্ধকের কাপড় পরিধান করান হবে ? 
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তাদের দেহের জামা হবে গন্ধকের এবং আগুন তাদের চেহারার সাথে মিশে থাকবে। -সূরা ইবরাহীম- শেষ রুকু । হযরত আশ্রাফ আলী থানবী (র) উপরােক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেছেন যে, আলকাতরাকে আরবী ভাষায় কিরান বলা হয়। আর এর জামা হওয়ার অর্থ হচ্ছে, সমস্ত দেহে আলকাতরা মাখা থাকবে, যাতে খুব দ্রুত তাতে আগুন লেগে দীর্ঘক্ষণ বিরাজমান থাকে। ” বয়ানুল কোরআন। যারা কুফরী করে, তাদের পরিধানের জন্য আগুনের কাপড় কেটে দেওয়া হবে।

আমল ওয়ায়েজীনের শাস্তি 
 বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন, যে রাতে আমাকে মিরাজে (উর্ধ্বমণ্ডলে ভ্রমণ) করান হয়েছে, সে রাতে আমি এমন কিছু লােকদের দেখেছি, যাদের দু’ঠোট আগুনের কেচি দ্বারা কাটা হচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরীল! এরা কারা? তিনি বললেন, এরা হচ্ছে আপনার উম্মতের সেই ওয়ায়েজীন, যারা মানুষকে কল্যাণজনক কাজ করতে নির্দেশ দিত, কিন্তু নিজের বেলায় তা ভুলে থাকত। তারা আল্লাহ তাআলার কিতাব পাঠ করত, কিন্তু তদানুযায়ী আমল করত না।  —বোখারী, মুসলিম, বায়হাকী । 

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, কেয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে। অতঃপর তাকে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে। তার পেটের নাড়িভুড়ি বের হয়ে দ্রুত আগুনে পতিত হবে । অতঃপর সে নিজের আতুড়ি ও নাড়িভুড়িগুলাে দলিত মথিত করে এমনভাবে ঘুরতে থাকবে, যেরূপ গাধা চাক্কি কাঁধে বহন করে ঘুরত থাকে। তার এ অবস্থা দেখে দোযখের অনেক লােক তার কাছে জমায়েত হবে। আর তাকে বলবে, ওহে? তােমার কি হয়েছে। তুমি কি আমাদেরকে কল্যাণকর কাজ করতে নির্দেশ দিতে না এবং মন্দ কাজ করতে নিষেধ করতে না ? তখন সে বলবে, হায়! তােমাদেরকে ভাল কাজ করার নির্দেশ দিতাম বটে কিন্তু নিজে তা করতাম না। তােমাদেরকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখতাম বটে, কিন্তু তা হতে নিজে বিরত থাকতাম না । -বােখারী, মুসলিম। 

সােনা-রূপার পাত্র ব্যবহারকারীদের শাস্তি
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বর্ণ রৌপ্যের পাত্র বা এমন কোন পাত্রে পানাহার করে, যাতে সােনা-রূপার মিশ্রণ থাকে, সে তার উদরে দোযখের আগুন ভর্তি করে।  মেশকাত, দারে কুতনী।

ফটোগ্রাফার বা ছবি অংকনকারীদের শাস্তি  
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভােগকারী হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে (জীবজন্তুর) ছবি অংকন করে। —বােখারী, মুসলিম। তিনি আরাে বলেছেন, প্রত্যেক ছবি অংকনকারীই দোযখে যাবে। তার প্রতিটি ছবির পরিবর্তে এক একটি প্রাণ সৃষ্টি করা হবে, যারা তাকে দোযখে শাস্তি দিতে থাকবে। | এ বর্ণনার পর হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, “তােমাকে যদি ছবি নির্মাণ করতেই হয়, তাহলে গাছপালা ও প্রাণহীন বস্তুর ছবি অংকন কর। বােখারী, মুসলিম।

 আত্মহত্যাকারীর শাস্তি ? 
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, কেউ পাহাড় থেকে পতিত হয়ে আত্মহত্যা করলে, সে দোযখের আগুনে জ্বলবে। সেখানে সে সর্বদা (পাহাড়ে চড়তে ও পতিত হতে থাকবে। আর কেউ বিষ পানে আত্মহত্যা করলে, সে বিষ তার হাতে থাকবে এবং দোযখের আগুনে বসে সে সর্বদা তা পান করতে থাকবে । আর কেউ লৌহ অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করলে, সে অস্ত্র তার হাতে থাকবে। আর দোযখে অবস্থান করে উক্ত অস্ত্র দ্বারা সে নিজের পেটে সর্বদা আঘাত করতে থাকবে। বােখারী, মুসলিম

অহংকারী ব্যক্তির শাস্তি 
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, গৌরব ও অহংকারী ব্যক্তি কেয়ামতের দিন মানুষরূপে পিপীলিকার আকারে উথিত হবে। অপমান তাদেরকে চতুর্দিক থেকে আবেষ্টন করে রাখবে। তাদেরকে জাহানান্নামের বন্ধিখানার দিকে তাড়িয়ে নেয়া হবে। আর সে জেলখানার নাম হচ্ছে বাওলাস। সেখানে তাদেরকে আগুনে জ্বালানাে হবে। আর দোযখীদের দেহের গলিত রক্ত-পুঁজ ও নিঝরা (তিনাতুল খাব্বাল) তাদেরকে পান করান হবে| তিরমিযী মেশকাত।

তিরমিযীর আর এক হাদীসে আছে, দোযখে একটি উপত্যকা রয়েছে, যার নাম হাবহাব। সেখানে প্রত্যেক অহংকারী ও দাম্ভিকগণ অবস্থান করবে।  হাকেম, তাবারানী, আবু ইয়ালা, তারগীব অততারহীব । 

রিয়াকার আবেদগণের শাস্তি 
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, তােমরা হুল্লুল হুজন (দুঃখ-চিন্তার কুপ) থেকে আল্লাহ তাআলার নিকট পরিত্রাণ প্রার্থনা কর । সাহাবী (রা)গণ জিজ্ঞেস করলেন, হুল্লুল হুজন কি ? নবী করীম (সঃ) বললেন, হুবুল হুজন হচ্ছে দোযখের একটি কূপ। তার ব্যাপারে স্বয়ং দোযখই প্রতিদিন চল্লিশবার ক্ষমা প্রার্থনা করে। সাহাবী (রা)গণ আবার জিজ্ঞেস করলেন, সে স্থানে কারা থাকবে? তখন নবী করীম (সঃ) বললেন, মানুষকে দেখাবার জন্য যারা এবাদাত করে, সেসব রিয়াকার আবেদগণই সেখানে যাবে । -তিরমিযী, ইবনে মাজা, আত্তারগীব অতৃতারহীব ! 

ইবনে মাজার বর্ণনায় আছে, নবী করীম (সঃ) বলেছেন, এবাদাতকারীদের মধ্যে আল্লাহ তাআলার নিকট সে-ই বেশী ঘূণিত ও রােষানলের পাত্র; যে জালেম শাসকদের কাছে যায়। অর্থাৎ যারা তােষামােদ-চাটুকারিতা ও পার্থিব স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তাদের কাছে যায়। -ইবনে মাজা। 

এলমেদ্বীন গােপনকারীর শাস্তি
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, কারাে কাছে যদি শরীয়তের কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়, আর সে তা জানা সত্ত্বেও গােপন করে, তাহলে কেয়ামতের দিন তার মুখে আগুনের লাগাম পরান হবে। তিরমিযী, আবু দাউদ, মেশকাত। 
মদ পান ও নেশারকর দ্রব্য গ্রহণকারীর শাস্তি 
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আমার মহান প্রতিপালক নিজের নামে কসম করে বলেছেন যে, আমি আমার সম্মানের কসম করে বলছি, আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ এক ঢােক শরাব পান করলে, তাকে আমি সে পরিমাণই পুঁজ পান করাব। আর যে বান্দা আমার ভয়ে শরাব পান করা পরিত্যাগ করবে, তাকে  আমি পবিত্র হাউজের পানি পান করাব। সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা নিজ দায়িত্ব করে নিয়েছেন যে, কেউ নেশার দ্রব্য পান করলে কেয়ামতের দিন অবশ্যই তাকে তিনাতুল খাবাল পান করাবেন। সাহাবী (রা)গণ জিজ্ঞেস করলেন, তিনাতুল খাবাল কি? নবী করীম (সঃ) বললেন, দোযখীদের দেহের ঘাম অথবা তিনি বলেছেন, দোযখীদের নিঝরা। —মেশকাত 

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দেয়া হবে যে, জালেমগণ (কাফের মুশরেকগণকে) ও তাদের সাথীগণকে এবং আল্লাহ তাআলাকে পরিত্যাগ করে তারা যাদের এবাদত-বন্দেগী করত তাদেরকে জমায়েত কর। অতঃপর তাদেরকে দোযখের পথ দেখাও। (তারপর নির্দেশ হবে) ওদেরকে (কিছু সময়ের জন্য) থামাও, এদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে । (তারপর জিজ্ঞেস করা হবে) তােমাদের কি হল যে, তােমরা এখন একে অপরকে সহায়তা করছ না? (কিন্তু একথার পরও তারা পরস্পরকে সাহায্য করতে পারবে না। বরং তারা সকলেই তখন মাথা অবনত করে দাড়িয়ে থাকবে।” -সূরা সাফফাত- ২য় রুকু।

আল্লাহ তাআলা বলেন : “যখনই কোন দল দোযখে প্রবেশ করবে, তখনই তারা নিজেদের অপর দলকে লা’নত করবে। অবশেষে তারা সকলে যখন তাতে একত্রিত হবে, তখন পরের লােকেরা আগের লােকদেরকে লানত করে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! ওরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে, সুতরাং দোযখে ওদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন।” -সূরা আরাফ। 

দোযখে প্রবেশকারীদের সংখ্যা 
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা হযরত আদম (আ)-কে সম্বােধন করে বলবেন, হে আদম! প্রত্যুত্তরে তিনি বলবেন, আমি উপস্থিত, আপনার হাতেই সমস্ত কল্যাণ। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তােমার সন্তানদের মধ্য থেকেদোযখীদেরকে বের কর। তিনি আরয করবেন, দোযখীদের সংখ্যা কত? আল্লাহ তাআলা বলবেন হাজারে নয়শত নিরানব্বই জম! একথা শুনে হযরত আদম (আ) খুব অস্বস্তি বোধ করবেন। দুঃখ-চিন্তায় এ সময় শিশু বৃদ্ধে পরিণত হবে এবং গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত ঘটে যাবে। আর সবাই তখন চেতনা হারিয়ে ফেলবে। আসলে তারা বেহুশ হবে না। কিন্তু আল্লাহর শাস্তি হবে খুবই কঠিন (যার ফলে তারা বােধজ্ঞান হারিয়ে ফেলবে)। এ কথা শুনে সাহাবী (রা)গণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল ! আমাদের মধ্যে একজন জান্নাতী কে সে ? নবী করীম (সঃ) বললেন, তােমরা ভীত হয়ােনা। সুখবর হল, সেই একজনই হবে তােমাদের মধ্য থেকে, আর এক হাজার হবে ইয়াজুজ মাজুজ থেকে। এভাবেই হিসাব হবে। বােখারী, মুসলিম।

দোযখের অধিকাংশই হবে মহিলা 
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আমি জান্নাতের প্রতি তাকালে সেখানকার অধিকাংশ লােকই দেখলাম পেশাহীন (দরিদ্র) লোেক। আর দোযখের প্রতি তাকালে দেখলাম, সেখানকার অধিকাংশ হচ্ছে মহিলা। –মেশকাত। 
আর এক হাদীসে আছে, নবী করীম (সঃ) ঈদুল আজহা অথবা ঈদুল ফিতরের নামাযের জন্য ঈদগাহে আসছিলেন। এমন সময় পথিমধ্যে অনেক মহিলাকে দেখে তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, হে নারী সম্প্রদায়! তােমরা বেশি বেশি দান-সদকা কর। কেননা আমাকে দোযখীদের মধ্যে অধিকাংশই দেখান হয়েছে তােমাদের । মহিলাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি কারণে হবে ? নবী করীম (সঃ) বললেন, কেননা, তােমর খুব বেশী অভিশাপ কর এবং স্বীয় স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকে। 

Leave a Comment