দোজখ বা জাহান্নামের বিবরণ জাহান্নামের খাবার জাহান্নামের শাস্তি

 

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, চারটি প্রাচীর দ্বারা দোযখ পরিবেষ্টিত হয়ে আছে। এ প্রাচীরগুলাের প্রত্যেকটির প্রশস্ততা হচ্ছে চল্লিশ বছর পথ চলার দূরত্বের পরিমাণ। –তিরমিযী, মেশকাত।

দোযখের দরজার বর্ণনায় কোরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা বলেছেন :  “তাদের জন্য এমন দোযখের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, যার বিরাট বিরাট সাতটি দরজা রয়েছে। আর প্রত্যেকটি জায় তাদের জন্য বণ্টনকৃত স্বতন্ত্র অংশ রয়েছে।”

 আল্লাহ তাআলা বলেন : মুনাফেকরা থাকবে দোযখের সর্বনিম্ন স্তরে। এ আয়াতে প্রকাশ পায় যে, দোযখে বিভিন্ন স্তর থাকবে। তাফসীরে রুহুল মায়ানীতে উপরােক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় দোযখের সাতটি স্তরের কথা এভাবে উল্লেখ করেছেন (১) জাহান্নাম (2) লাজা (৩) হুতামা (৪) সাঈর (৫) সাকার (৬) জাহীম. (৭) হাবীয়া। তাফসীরে দুররে মানছুরে ইবনে জারীজ থেকে এরূপ ক্রমিককেই উল্লেখ করেছেন। 

উপরােক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় দোযখের স্তরসমূহের এভাবে ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে সাথে সাথে প্রত্যেক স্তরের লােকদেরকেও চিহ্নিত করছেন। তিনি লেখেছেন ঃ (১) গুনাহগার মুমিনগণের জন্য হচ্ছে দোযখ (২) নাসারাদের মধ্যে যারা কাফের তাদের জন্য হচ্ছে লাজা (৩) কাফের ইহুদীদের জন্য হচ্ছে তামা (৪) সায়েবীনদের জন্য সাঈর (৫) অগ্নিপূজকদের জন্য সাকার (৬) মুশরেকদের জন্য জাহীম আর (৭) মুনাফিক এবং ফেরআউন ও তার বাহিনীর জন্য হচ্ছে হাবীয়া দোযখ। 

দোযখের শাস্তির অনুমান ? 

 হযরত নােমান ইবনে বশীর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, দোযখে সে ব্যক্তির শাস্তি হবে সবচেয়ে অল্প ও হালকা, যাকে আগুনের এক জোড়া জুতাে আগুনের ফিতাসহ পড়ান হবে। যার ফলে পাতিলে পানি টগবগ করার ন্যায় তার মাথার মগজ টগবগ করে বিগলিত হয়ে ঝরতে থাকবে। আর সে ব্যক্তি মনে করবে যে, আমাকেই বুঝি সর্বাধিক শাস্তি দেয়া হয়েছে। অথচ তার শাস্তি হবে সবচেয়ে কম -মেশকাত।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, তােমরা যে আগুন বর্তমানে জ্বালাচ্ছ, তা হচ্ছে দোযখের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ। সাহাবীগণ বললেন, জ্বালানাের জন্য তাে এটাই যথেষ্ট, তারপরও এত বেশী তীক্ষ্ণতার প্রয়ােজন কি? নবী করীম (সঃ) বললেন, তােমাদের কথা বাস্তব। কিন্তু এতদসত্ত্বেও দুনিয়ার আগুনের তুলনায় দোযখের আগুনের তেজ ও গরমী উনসত্তর ভাগ বেশী । -বােখারী, মুসলিম ।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, দোযখকে এক হাজার বছর পর্যন্ত প্রজ্বলিত করা হলে তার আগুন লাল বর্ণ ধারণ করে। অতঃপর এক হাজার বছর পর্যন্ত প্রজ্বলিত করা হলে তার আগুন কালাে বর্ণ ধারণ করে। সুতরাং দোযখের আগুন বর্তমানে কালাে বর্ণের অন্ধকার রাতের মত। 

এক হাদীসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, কেয়ামতের দিন এমন এক দোযখীকে ধরে একবার দোযখে ঝুকানাে হবে, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় সবচেয়ে অধিক আরাম ও ভােগ-বিলাসে নিমগ্ন ছিল। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনাে কোন নেয়ামত (শান্তির বস্তু) দেখেছ? তােমার কি কখনাে শান্তি লাভের সৌভাগ্য হয়েছে? তখন সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তােমার নামে কসম করে বলছি, আমি কক্ষনাে শান্তি পাইনি। অতঃপর নবী করীম (সঃ) বললেন, কেয়ামতের দিন এমন এক জান্নাতীকে ধরে জান্নাতের উপর ঝুকানাে হবে, যে দুনিয়ায় সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত ছিল। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনাে কোন বিপদ-আপদের সম্মুখীন হয়েছ ? তােমার কি কখনাে কঠিনতর দুঃখ বেদনার মধ্যে দিন কেটেছে? তখন সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তােমার নামে শপথ করে বলছি, আমি কখনও বিপদের সম্মুখীন হইনি এবং কোন দুঃখ-বেদনার মধ্যেও আমার জীবন কাটেনি। মুসলিম। 

দোযখের শ্বাস-প্রশ্বাস ? 

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন যখন খুব বেশি গরম অনুভব হবে তখন জোহর নামায বিলম্বে আদায় করবে। কেননা গরমের প্রখরতা সৃষ্টি হয় দোযখের উত্তাপের ক্ষীপ্রতার কারণে। দোযখ তার প্রতিপালকের কাছে এ অভিযােগ করল যে, আমার উত্তাপ ও ক্ষীপ্রতা এমন বেড়ে গেছে যে, আমার কোন কোন অংশ অপর অংশকে খেয়ে ফেলছে। সুতরাং আমার উত্তাপের প্রখরতা যাতে হ্রাস পায় সেজন্য আমাকে অবকাশ দিন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাকে দু’বার শ্বাস গ্রহণের অনুমতি দিলেন। একবার শীতের মৌসুমে, আর একবার গরমের মৌসুমে শ্বাস ছাড়তে বললেন। সুতরাং তােমরা যে প্রচণ্ড গরম অনুভব কর, তা হচ্ছে দোযখের গরমের প্রতিক্রিয়া (যা শ্বাস ছাড়ার কারণে বাইরে আসে।) আর তােমরা যে খুব বেশি শীত অনুভব কর, তা হচ্ছে দোযখের ঠাণ্ডার প্রতিক্রিয়া -বােখারী, মুসলিম। 

সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, প্রতিদিন দুপুরের সময় দোযখকে জ্বালিয়ে অগ্নিশিখায় পরিণত করা হয়। আমাদের গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত যে, দোযখের শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে সৃষ্ট দুনিয়ার সাধারণ একটু শীত ও গরমও আমাদের সহ্য হয় না, আর দোযখের আসল দহন ও ঠাণ্ডাকে আমরা কিভাবে সহ্য করব? হে চক্ষুষ্মন ব্যক্তি। শিক্ষা গ্রহণ করবে কি ? 

পরিতাপের বিষয়। মানুষ দুনিয়ার গরম ও ঠাণ্ডা থেকে বেঁচে থাকার জন্য কতইনা প্রচেষ্টা চালায়, কিন্তু দোযখের দহন (গরম ও ঠাণ্ডা) হতে বাঁচার জন্য কিছুমাত্রও চিন্তা করে না। 

হযরত ইবনে মাসউদ (রা) বলেন- “রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, দোযখকে সেদিন উপস্থিত করা হবে, যার সাথে থাকবে সত্তর হাজার লাগাম। আর প্রত্যেক লাগামের জন্য সত্তর হাজার করে ফেরেশতা নিয়ােগ করা হবে, যারা তা টানতে থাকবে।” —মুসলিম।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, দোযখে লম্বা গর্দান বিশিষ্ট উটের ন্যায় বিরাট বিরাট সাপ থাকবে। (তার বিষের তেজস্ক্রিয়া এমন হবে যে, কোন একটি সাপ দংশন করলে দোযখী ব্যক্তি চল্লিশ বছর পর্যন্ত তার বিষক্রিয়া অনুভব করবে। অতঃপর তিনি বললেন : নিশ্চয় সামান সজ্জিত খচ্চরের ন্যায় দোযখে বিরাট বিরাট বিচ্ছ রয়েছে। (তার বিষক্রিয়াও এত বেশি যে,) কোন একটি বিচ্ছ দোযখের কাউকে দংশন করলে সে চল্লিশ বছর পর্যন্ত তার জ্বালা-যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকবে। —আহমদ, মেশকাত ।

দোযখে উনিশ জন ফেরেশতা মােতায়েন রয়েছে। এ উনিশ জন ফেরেশতার প্রধান হচ্ছেন মালেক ফেরেশতা বাকী আঠার জন হচ্ছেন অন্যান্য কর্মকর্তা। যদিও দোযখীদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য একজন ফেরেশতাই যথেষ্ট, কিন্তু বিভিন্ন প্রকার শাস্তি দেয়ার এবং শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য উনিশ জন ফেরেশতা নিয়ােগ করা হয়েছে। | দোযখের কর্মকর্তা ফেরেশতাদের আলােচনায় আল্লাহ তাআলা বলেন : “দোযখে খুব কঠিন (হৃদয়) সুদৃঢ় (দেহী) ফেরেশতা মােতায়েন করা হয়েছে যারা আল্লাহ তাআলার কৃত কোন নির্দেশ অমান্য করে না, বরং যা নির্দেশ করা হয় তাই তারা কার্যকরী করে।” 

দোযখ যখন দোযখীদের থেকে একশ বছরের দূরত্বে থাকবে, তখনই তাদের প্রতি তার দৃষ্টি পড়বে। দেখামাত্রই সে ঘুরপাক খেতে থাকবে এবং তার থেকে ক্রোধের শব্দ বের হতে থাকবে, যা দোযখীগণ শুনতে পাবে। আর সে দোযখে তাদেরকে ফেলার পর দুনিয়ায় যেমন কোন বিপদে পড়লে মানুষ বলে হায়! আমি যদি মরে যেতাম! এভাবে তারাও মৃত্যুকে ডাকতে থাকবে। বলবে, হায়! মৃত্যু কোথায়? আমাদের মৃত্যু হােক। আমরা এ দহন ও মর্মজ্বালা আর সহ্য করতে পারছিনা।

দোযখ ঐসব লােকদেরকে নিজেই আহবান করবে, যারা দুয়ািয় সত্য গ্রহণ করা হতে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে এবং সত্য না মেনে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়। আর যারা দুনিয়ায় ধন-সম্পদ জমা করে তা সংরক্ষণ করে রাখে।” সূরা মাআরেজ

 রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, কেয়ামতের দিন দোযখ হতে এমন একটি গর্দান বের হবে, যার দুটি চোখ থাকবে। সে চোখ দ্বারা সে দেখবে। দু’টি কান থাকবে, যা দ্বারা সে শুনবে। আর একটি মুখ থাকবে, যা দ্বারা সে কথা বলবে। সে বলবে, আমি তিনজনকে শাস্তি দেয়ার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছি। তারা হল (১) প্রত্যেক আল্লাহদ্রোহী ব্যক্তি (২) সেসব লােক যারা আল্লাহ তাআলার সাথে অন্য কাউকে অংশী সাব্যস্ত করেছে বা মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে। (৩) মূর্তি নির্মাণকারী বা জীবজন্তুর ছবি অঙ্কনকারী। তিরমিযী, মেশকাত।

দুনিয়ার নিয়ম হচ্ছে ধৈর্যধারণ করার পর আরাম ও শান্তি লাভ হয়। কিন্তু দোযখীরা ধৈর্যধারণ করলেও তাদের শাস্তি সামান্য মাণে হ্রাস হবে না । আল্লাহ তাআলা বলেন 

“তােমরা দোযখে প্রবেশ কর। অতঃপর তােমরা ধৈর্য ধারণ কর অথবা না কর, উভয়ই তােমাদের জন্য সমান। অর্থাৎ এতে কোনই ফলােদয় পাবে না । তােমরা যেরূপ কাজ করতে তােমাদেরকে সেরূপ প্রতিফল দেয়া হবে।” 

আল্লাহ তাআলা বলেন- “আজকের দিন তাদের কোন বন্ধু হবে না এবং জখম থেকে নিঃসৃত স্রাব ছাড়া তারা কোন খাদ্যও পাবে না। যা অপরাধীগণ ছাড়া কেউই আহার করবে না।” সূরা হাক্কাহ- ১ম রুকু

“পাপাচারীদের খাদ্য হবে ঝাকুম লতাপাতা (গাছ)। যা গলিত তামার মত পেটে গিয়ে গরম পানির ন্যায় ফুটতে থাকবে। মিথ্যারােপকারী বিভ্রান্ত লােকেরা! তােমরা ঝাকুম গাছ বা লতাপাতা আহার করবে। আর তা দ্বারাই উদর পূর্তি করবে। তােমরা অত্যুষ্ণ পানি পান করবে। তৃষ্ণার্ত উটের পানি পান করার ন্যায় অত্যুষ্ণ পানি পান করবে। আর এটাই হবে পরকালের দিন তাদের আপ্যায়ন।

সূরা নাবাতে আল্লাহ তাআলা বলেন : “দোযখীরা অত্যুষ্ণ গরম পানি ও গাচ্ছাক ছাড়া আর কোন ঠাণ্ডা এবং পান করার মত কোন বস্তুর স্বাদ গ্রহণ করবে না।” 
নবী করীম (সঃ) বলেছেন, এক বালতি গাঙ্ক যদি দুনিয়ায় ফেলা হয়, তাহলে দুনিয়ার সমস্ত মানুষের মৃত্যু ঘটবে । তিরমিযী, মেশকাত । 
কোরআন মজীদে গাচ্ছাক দ্বারা কি বুঝানাে হয়েছে সে সম্পর্কে বিশেজ্ঞদের বিভিন্ন অভিমত বিদ্যমান। যেমন— 
(১) গাচ্ছাক দ্বারা দোযখীদের দেহগলিত পুঁজ ও জখমের নিঝরা বুঝানাে 
হয়েছে। (২) গাচ্ছাক দ্বারা দোযখীদের অশ্রু বুঝানাে হয়েছে। 
(৩) গাচ্ছাক দ্বারা যামহারীর অর্থাৎ দোযখের অতিশয় ঠাণ্ডা শাস্তির কথা বুঝান হয়েছে। 
(৪) কেউ কেউ বলেছেন, এমন ঠাণ্ডা পুঁজকে গাঙ্ক বলা হয়, যা অতিশয় ঠাণ্ডার কারণে পান করা যায় না। (কিন্তু ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হয়ে পান করতে হবে। মােট কথা গাচ্ছাক খুবই খারাপ ও অতিশয় দুর্গন্ধময় বস্তু। হে আল্লাহ! আমাদেরকে এ থেকে পরিত্রাণ প্রদান করুন। 

গলিত ধাতু 

দোযখীদেরকে গলিত গরম ধাতু পান করতে দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআ’লা বলেন- “তারা যদি (পিপাসায় কাতর হয়ে) ফরিয়াদ করতে থাকে, তখন তাদেরকে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয় দেয়া হবে, যা দ্বারা তাদের মুখমণ্ডল ঝলসে যাবে। তাদের পানীয় কতইনা খারাপ এবং দোযখ কতইনা নিকৃষ্টতম আশ্রয়স্থল।” সূরা কাহাফ- ৪র্থ রুকু।

 গলিত পুঁজ 

আল্লাহ তাআলা বলেন- “আর দোযখীদেরকে গলিত পুঁজ পান করানাে হবে। তারা খুবই কষ্টের সাথে পান করতে থাকবে। কিন্তু তা গলধকরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তখন চতুদিক থেকে মৃত্যুর আগমন দেখতে পাবে, কিন্তু সে মৃত্যুবরণে সক্ষম হবে না। -সূরা ইবরাহীম

অতিশয় উষ্ণ পানি 

দোযখীদেরকে অতিশয় উষ্ণ পানি পান করানাে হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন-  “দোযখীদেরকে খুবই উষ্ণ পানি পান করান হবে। যার ফলে তাদের নাড়িভুড়ি টুকরাে টুকরাে হয়ে ফেটে যাবে।” —সরা মহাম্মদ

হযরত আবুদ দারদা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, দোযখীদের উদরে এমন সূতীব্র ক্ষুধার জ্বালা সৃষ্টি করা হবে যে, শুধুমাত্র এককভাবেই এ ক্ষুধার সুতীব্র জ্বালা-ই তাদের সেই শাস্তির সমান হয়ে দাঁড়াবে যা তাদেরকে ক্ষুধা ছাড়া অন্যান্য উপায়ে দেয়া হতে থাকবে। সুতরাং তারা যখন খাদ্য প্রার্থনা করবে, তখন তাদেরকে বিষাক্ত কাঁটাযুক্ত গাছ খেতে দেয়া হবে। যা তাদেরকে পুষ্টিও যােগাবেনা এবং ক্ষুধা নিবারণ করবে না। দ্বিতীয় বার তারা যখন খাদ্য প্রার্থনা করবে, তখন তাদেরকে গলায় আটকে যায় এমন খাদ্য খেতে দেয়া হবে। যা মুখে পােরার সাথে সাথে গলায় আটকে যাবে। তারা তখন তা গলা থেকে বের করার চেষ্টা চালাবে। এমন সময় তাদের মনে পড়ে যাবে যে, কোন কিছু গলায় আটকে গেল পার্থিব জীবনে তারা পানি পানের মাধ্যমে তা গলধকরণ করে নিত। অতএব তারা তখন পানি প্রার্থনা করবে। তখন তাদের সামনে লােহার পাত্রে করে ভীষণ গরম পানি দেয়া হবে। সে পাত্রগুলাে যখন তাদের মুখের সামনে তুলে ধরা হবে, তখন তার উত্তাপে তাদের চেহারা ঝলসে যাবে। এরপর যখন উক্ত পানি তাদের উদরে গিয়ে পৌছবে, তখন তা তাদের পেটের সব নাড়ীভুড়িকে টুকরাে টুকরাে করে ছিড়ে ফেলবে। -তিরমিযী, মেশকাত

Leave a Comment