নারীদের পর্দা ও আধুনিক যুগের ফ‍্যাশন বোরকা হিজাব । ফেসবুকে মেয়েদের ছবি দেওয়া

যেসব বনেরা পর্দা করেও ফেসবুকে ছবি আপলোড করেন—

ওহে বোন! পর্দা ফরজ করার পেছনে অনেক হেকমত রয়েছে।পর্দা ফরজ করার পেছনে যত হেকমত রয়েছে তন্মধ্যে একটি হলো—আপনাকে দেখে কোনো পুরুষের মনে যেন কুপ্রবৃত্তি জাগ্রত না হয়। এজন্য প্রত্যেক দ্বীনদার মেয়েরাই নিজেকে পর্দায় আবৃত করে রাখে। যেন তাকে দেখে কোন পুরুষের কুপ্রবৃত্তি জাগ্রত না হয়। 

কিন্তু বর্তমানে একটি ট্রেন্ড বের হয়েছে তা হচ্ছে—অনেক দ্বীনদার বোনেরা বোরকা হিজাব পরে ফেসবুকে ছবি আপলোড করেন। ওই পিকটা কিন্তু অসংখ্য ছেলেদের দৃষ্টিগোচর হয়। আপনার কী মনে হয়, আপনার হিজাবি পিক দেখে ছেলেদের মনে কুপ্রবৃত্তি জাগ্রত হবে না? যদি এটা মনে করেন তাহলে আপনি ভুল করছেন। কেননা কেউ কেউ এমনও আছে যারা আপনার হিজাবি পিক দেখেও  আপনাকে নিয়ে কল্পনার রাজ্যে চলে যায়।

শুধু কি তাই? আরে, কেউ কেউ তো আপনার টানা টানা চক্ষু যুগল দেখে নিকাবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য উপলব্ধি করে। আর এতেই আপনাকে নিয়ে তার মনে কুপ্রবৃত্তির বাসনা জাগ্রত হয়।আর যখন একটি ছেলের মনে আপনাকে নিয়ে কুপ্রবৃত্তির বাসনা জাগ্রত হবে তখন এই পর্দার কোনো মূল্য থাকবে কী?কী লাভ এমন পর্দা করে, এতে তো লৌকিকতা প্রদর্শন করানো হচ্ছে। উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট।একজন পরিপূর্ণ দ্বীনদার মেয়ে কখনো পিক তুলে ফেসবুকে আপলোড করতে পারে না; হোক সেটা পর্দায় আবৃত।

এই সামান্য পিক আপলোড করার মাধ্যমে পর্দা কে অবমাননা করবেন না। পর্দা করলে করার মত করতে হবে। এতে আপনার পরিপূর্ণ দ্বীনদারিত্ব প্রকাশ পাবে। আর যদি পর্দা করেও হিজাবি পিক আপলোড করেন তাহলে বুঝে নিবেন শয়তান আপনাকে হাতিয়ার স্বরূপ ব্যবহার করছে। তাই আমি সর্বোপরি একটা কথাই বলবো—শয়তানের হাতিয়ার স্বরূপ ব্যবহৃত না হয়ে একটু বোঝার চেষ্টা করুন।

◀🚫▶🚫◀🚫▶🚫◀🚫▶🚫◀🚫

আলহামদুলিল্লাহ। রাস্তা-ঘাটে হিজাব নিক্বাব করা বোনদের সংখ্যা দেখে নির্দ্বিধায় বলা যায়, মেয়েরা আগের চেয়ে অনেক বেশি পর্দা সম্পর্কে সচেতন।

কিন্তু সঠিক জ্ঞানের অভাবে অনেক সময়েই দেখা যায়, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সঠিক ভাবে পর্দা করা হচ্ছে না অনেকের। অনেক বোনকে দেখা যায় এমন বোরখা পরিধান করতে যেগুলোতে কোমরের কাছে ফিতা থাকে। ফিতা বেঁধে বোরখা পরলে পর্দার গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত লঙ্ঘন করা হয়। 
কোন শর্ত জানার আগে চলুন জেনে নেওয়া যাক পর্দার শর্ত গুলো কি কি..!
১- পরিপূর্ণ পর্দা বা হিজাব এমন ভাবে করতে হবে যেন পুরো শরীর ঢেকে থাকে।
২- কাপড়টা পাতলা বা এমন হবেনা যে ভিতরে দেখা যায়।
৩- ঢিলাঢালা হবে, শরীরের শেইপ বোঝা যাবে না।
৪- আকর্ষণীয় হতে পারবে না, দৃষ্টি কেড়ে নেয় এমন হবে না।
৫- সুবাস থাকবে না।
৬- পুরুষের পোশাকের সদৃশ হবে না।
৭- বিধর্মী নারীর অনুকরণ করা হবে না।
৮- প্রাণীর ছবি থাকবে না।
তৃতীয় পয়েন্টটি দেখুন, শরীরের শেইপ বোঝা যাবে না এমন ভাবে পর্দা করতে হবে। যখন আপনি ফিতা বাঁধেন, সেই ফিতা ঢিলেঢালা করে বাঁধলেও চেস্ট এরিয়া এবং কোমরের শেইপ বোঝা যায়।
আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পর্দা করলাম, কিন্তু শায়তানের প্ররোচনায়, সঠিক জ্ঞানের অভাবে যদি পর্দার খিলাফ পোশাক পরে ফেলি, তবে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক।
আল্লাহ সুবহানা তা’লা আমাদের সঠিক ভাবে পর্দা করার তৌফিক দিন, আমীন ||

লেখক – মাহমুদ বিন নূর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *