পরিবার সঞ্চয়পত্র আপডেট ২০২১ দ্বিগুণ সুদ এখন Poribar SanchyPatra BD সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম

পরিবার সঞ্চয়পত্র আপডেট ২০২০ দ্বিগুণ সুদ এখন Poribar SanchyPatra BD সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম
পরিবার সঞ্চয়পত্র 


বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের দাম ১০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত , এটি কিনতে পারবেন সঞ্চয় ব্যুরো থেকে, বাংলাদেশের সকল তফসিল ব্যাংক হতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা হতে এছাড়া জিপিও ডাকঘর থেকে ।

সঞ্চয়পত্রের ক্রয় পদ্ধতি :  সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র সরাসরি নগদ অর্থ প্রদানের মাধ্যমে কিনতে পারবেন । তবে এক লাখ টাকার উপরে যদি আপনি সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ করতে চান সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে এমআইসি যুক্ত ব্যাংক চেক দিয়ে ক্রয় করতে হবে ।
মেয়াদ : সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ ৫ বছর । চাইলে মেয়াদ শেষ হোওয়ার আগে টাকা তোলা যায় , তবে তা নিয়ম মেনে ।
কারা কিনতে পারবে : 
– ১৮ বছর ও তার বেশি বয়সের যেকোন বাংলাদেশী মহিলা নাগরিক ।
– বাংলাদেশী নাগরিত্বের যেকোন শারীরিক প্রতিবন্ধী, সেটি নারী বা পুরুষ হতে পারে ।
– ৬৫ বছর ও তার বেশি বয়সের বাংলাদেশী নাগরিত্বের
যেকোন নারী ও পুরুষ।
– ওপরের নিয়ম মেনে আপনার বৈধ আয় থাকলেই আপনি কিনতে পারবেন । একথা বলার কারণ এটায় যে সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে আপনাকে জিঙ্গাসা করতে পারে আপনার আয়ের উৎস কি ? আপনি আপনার আয়ের বৈধ পেপারস দেখাতে পারলে তারা সমস্যা করবে না ।
সঞ্চয়পত্রের উৎসকর : পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১ লাখ টাকার ওপর কিনলে উৎসকর দিতে হয় ১০% হারে ।
লাভের পরিমাণ :
মুনাফার হার মেয়াদ শেষে ১১.৫২%। বছর ভিত্তিক মুনাফার হার যথাক্রমে ১ম বছরান্তে ৯.৫০% হারে মুনাফা, ২য় বছরান্তে ১০.০০% হারে মুনাফা, ৩য় বছরান্তে ১০.৫০% হারে মুনাফা, ৪র্থ বছরান্তে ১১.০০% হারে মুনাফা, ৫ম বছরান্তে ১১.৫২% হারে মুনাফা ; এই হারে মুনাফা পাবেন মেয়াদ শেষ হোওয়ার আগে ভাঙ্গলে ।
সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ সীমা : 
– নতুন নিয়মে একজন সাধারণ গ্রাহক একক নামে (পরিবার সঞ্চয়পত্র, ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও বাংলাদেশ ) সর্বোচ্চ ৫০ লাখ এবং যৌথ নামে ১ কোটি টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন না। আর ক্রেতা পেনশনার হলে একক নামে (পরিবার সঞ্চয়পত্র, ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও বাংলাদেশ ) ১ কোটি এবং যৌথ নামে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত কিনতে পারবেন।
– একক নামে ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ইনভেস্টমেন্ট করা যায় ।
মুনাফার হিসাব :
মেয়াদ শেষে প্রতি লাখ টাকায় ৫৭,৬০০ টাকা পাওয়া যাবে উৎসকর ব‍্যাতিত, আর ১ লক্ষ টাকায় প্রতি  মাসে হারে ৯৬০ মাত্র টাকা মুনাফা পাবেন, এ টাকা হতে উৎসকর কর্তন হবে অবশ্যই ।
উদাহরণ সরুপ বিভিন্ন পরিমাণ টাকায় প্রতি মাস পর পর যে মুনাফা পাওয়া যাবে তা নিচে দেখুন : 
১০,০০০.০০ টাকায় ৯৬.০০ টাকা মুনাফা
২০,০০০.০০ টাকায় ১৯২.০০ টাকা মুনাফা
৫০,০০০.০০ টাকায় ৪৮০.০০ টাকা মুনাফা
১,০০,০০০.০০ টাকায় ৯৬০.০০ টাকা মুনাফা
২,০০,০০০.০০ টাকায় ১,৯২০.০০ টাকা মুনাফা
৫,০০,০০০.০০ টাকায় ৪,৮০০.০০টাকা মুনাফা
১০,০০,০০০.০০ টাকায় ৯,৬০০.০০ টাকা মুনাফা
মেয়াদ শেষের আগে ভাঙলে প্রতি লাখ টাকায় যযে পরিমাণ টাকা ফেরত পাবেন: 
১ম বৎসর চলাকালীন ১,০০,০০০ – গৃহীত মুনাফা হতে যে পরিমাণ টাকা তুলেছে তা বাদ দিয়ে ফেরত যোগ‍্য‍ টাকা ।
২য় বৎসর চলাকালীন ১,০৯,৫০০- গৃহীত মুনাফা
হতে যে পরিমাণ টাকা তুলেছে তা বাদ দিয়ে ফেরত যোগ‍্য‍ টাকা ।
৩য় বৎসর চলাকালীন ১,২০,০০০- গৃহীত মুনাফা
হতে যে পরিমাণ টাকা তুলেছে তা বাদ দিয়ে ফেরত যোগ‍্য‍ টাকা ।
৪র্থ বৎসর চলাকালীন ১,৩১,৫০০ – গৃহীত মুনাফা
হতে যে পরিমাণ টাকা তুলেছে তা বাদ দিয়ে ফেরত যোগ‍্য‍ টাকা ।
৫ম বৎসর চলাকালীন ১, ৪৪,০০০ – গৃহীত মুনাফা 
হতে যে পরিমাণ টাকা তুলেছে তা বাদ দিয়ে ফেরত যোগ‍্য‍ টাকা ।
সুবিধা : 
– নমিনী নিয়োগ করা যায় ইচ্ছা করলে নমিনী চেন্জ করা যায় ।
– এক মেয়াদ শেষ হলে মূল টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃবিনিয়োগ হয়ে যাবে, মুনাফা বা সুদ ব‍্যতীত ।
– চুরি হলে/হারিয়ে গেলে/ধ্বংস হলে/ নষ্ট হলে ডুপ্লিকেট/নকল সঞ্চয়পত্র ইস্যু/তোলা যাবে ।
-সঞ্চয়পত্র এক স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায়, ব্যাংক হতে ব্যাংকে, জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো থেকে জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরোতে ও ডাকঘর থেকে ডাকঘরে ।
– ক্রেতা মারা গেলে নমিনী চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে টাকা তুলতে পারবেন ।
– ক্রেতা বা নমিনী চাইলে মেয়াদ শেষ হোওয়ার আগে এটি ভাঙ্গাতে পারবেন ।
সঞ্চয়পত্র কেনার পেপার :
– ক্রেতার ও নমিনীর ২ কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি ।
সঞ্চয়পত্র করার ও ভাঙানোর নিয়ম :  আপনি যেই ব্যাংক বা সঞ্চয় ব্যুরো থেকে কিংবা ডাকঘর থেকে সঞ্চয় পত্র কিনেছেন সেখান থেকে আপনি সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারবেন । 
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তোলার নিয়ম : 
নতুন নিয়মে, আপনি যেই অ্যাকাউন্টের চেক দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন  মুনাফার টাকা আপনার ঐ ব্যাংক একাউন্টে চলে যাবে । চাইলে ব্যাংক একাউন্ট বদলানো যাবে, মুনাফার টাকা তোলার ক্ষেত্রে ।
আর ১ লাখ টাকার বেশি হলে ক্রেতাকে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দিতে হচ্ছে। এছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বছর সঞ্চয়পত্রের উৎসকর ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০% করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *