পেনশনার সঞ্চয়পত্র আপডেট বেশি লাভ পাওয়া যায় । সঞ্চয়পত্রের উৎসকর । সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ সীমা । সঞ্চয়পত্র নগদায়ন ও ভাঙানোর নিয়ম



সঞ্চয়পত্রের দাম ৫০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত । সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন সঞ্চয় ব্যুরো, তফসিলী ব্যাংকসমূহ, বাংলাদেশ ব্যাংক এছাড়া ডাকঘর থেকে ।
সঞ্চয়পত্রের ক্রয় পদ্দতি :  সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র সরাসরি নগদ অর্থ প্রদানের মাধ্যমে কিনতে পারবেন । তবে এক লাখ টাকার উপরে যদি আপনি সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ করতে চান সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ব্যাংক চেক দিয়ে ক্রয় করতে হবে ।
কারা কিনতে পারবে : পেনশনার সঞ্চয়পত্র সাধারণত ক্রয় করতে পারবেন সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন এমন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ । এবং সেই সকল সরকারী, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন আর যদগ তিনি মারা যান, তার পরিবারের সদস্যরা  ক্রয় করতে পারবেন ।
সঞ্চয়পত্রের উৎসকর : অন‍্যান সঞ্চয়পত্রে ১ লাখ টাকার ওপর কিনলে উৎসকর দিতে হয় । তবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে উৎসকর দিতে হয় না ।
মেয়াদ : পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ ৫ বছর । তিন মাস ভিত্তিতে মুনাফা তোলার পর ৫ বছর মেয়াদ শেষে মূল বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত পাওয়া যাবে ।
সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ সীমা : ক্রেতা পেনশনার হলে একক নামে ১ কোটি এবং যৌথ নামে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত কিনতে পারবেন।
লাভের পরিমাণ : মুনাফার হার ১১.৭৬% মেয়াদ শেষে। বছর ভিত্তিক মুনাফার হার যথাক্রমে ১ম বছরান্তে ৯.৭০% হারে, ২য় বছরান্তে ১০.১৫% হারে, ৩য় বছরান্তে ১০.৬৫% হারে, ৪র্থ বছরান্তে ১১.২০% হারে, ৫ম বছরান্তে ১১.৭৬% হারে মুনাফা ।
মেয়াদ শেষে প্রতি লাখ টাকায় ৫৮,৮০০ টাকা পাওয়া যাবে, উৎসকর ব‍্যাতিত আর ১ লক্ষ টাকায় প্রতি  মাসে মুনাফা ১১.৭৬% হারে টাকা ৯৮০ মাত্র প্রদেয় হইবে। এ টাকা হতে উৎসে আয়কর কর্তন/লেভী কর্তন হইবে। কিন্তু যেক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হবার আগে বিনিয়োগকৃত টাকা উত্তোলন করলে, সেক্ষেত্রে ওপরে বছরভিত্তিক হারে মুনাফা থেকে প্রদেয় হইবে ও অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধিত হয়ে থাকিলে তা মূল টাকা হইতে কেটে নিয়ে সমন্বয় করে অবশিষ্ট মূল টাকা পরিশোধ করতে হবে ।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে বছর ভিত্তিতে গৃহীত মুনাফার পরিমাণ নিম্নরুপ পাওয়া যাবে :
১ ম বৎসর চলাকালীন ১,০০,০০০-গৃহীত মুনাফা, ২য় বৎসর চলাকালীন ১,০৯,৭০০- গৃহীত মুনাফা, ৩ য় বৎসর চলাকালীন ১,২০,৩০০- গৃহীত মুনাফা, ৪ র্থ বৎসর চলাকালীন ১,৩১,৫৯০-গৃহীত মুনাফা, ৫ ম বৎসর চলাকালীন ১, ৪৪,৮০০-গৃহীত মুনাফা (উৎস কর ছাড়া)
সুবিধা : 
– নমিনী নিয়োগ করা যায় ইচ্ছা করলে নমিনী চেন্জ করা যায় ।
– ক্রেতা মারা গেলে নমিনী চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে টাকা তুলতে পারবেন ।
– এটি পুড়ে গেলে, ধ্বংস বা নষ্ট হলে, চুরি হলে বা হারিয়ে গেলে  নকল বা ডুব্লিকেট সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা যায় ।
-সঞ্চয়পত্র এক স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায়, ব্যাংক হতে ব্যাংকে, জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো থেকে জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরোতে ও ডাকঘর থেকে ডাকঘরে ।
সঞ্চয়পত্র কেনার পেপার :
– ক্রেতার ও নমিনীর ২ কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি ।
সঞ্চয়পত্র নগদায়ন ও ভাঙানোর নিয়ম :  আপনি যেই ব্যাংক বা সঞ্চয় ব্যুরো থেকে কিংবা ডাকঘর থেকে সঞ্চয় পত্র কিনেছেন সেখান থেকে আপনি সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারবেন । 
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তোলার নিয়ম : 
নতুন নিয়মে, আপনি যেই অ্যাকাউন্টের চেক দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন  মুনাফার টাকা আপনার ঐ ব্যাংক একাউন্টে চলে যাবে । চাইলে ব্যাংক একাউন্ট বদলানো যাবে, মুনাফার টাকা তোলার ক্ষেত্রে ।
আর ১ লাখ টাকার বেশি হলে ক্রেতাকে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দিতে হচ্ছে। এছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বছর সঞ্চয়পত্রের উৎসকর ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০% করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *