বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ২০২১ ব্যাংকের চেয়ে দ্বিগুণ লাভে। সঞ্চয়পত্রের উৎসকর । সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ সীমা । সঞ্চয়পত্র নগদায়ন ও ভাঙানোর নিয়ম

বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ২০২০ ব্যাংকের চেয়ে দ্বিগুণ লাভে। সঞ্চয়পত্রের উৎসকর । সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ সীমা । সঞ্চয়পত্র নগদায়ন ও ভাঙানোর নিয়ম
বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের দাম ১০ টাকা থেকে শুরু করে ১০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত , এটি কিনতে পারবেন সঞ্চয় ব্যুরো থেকে, বাংলাদেশের সকল তফসিল ব্যাংক হতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা হতে এছাড়া জিপিও ডাকঘর থেকে ।
সঞ্চয়পত্রের ক্রয় পদ্দতি :  সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র সরাসরি নগদ অর্থ প্রদানের মাধ্যমে কিনতে পারবেন । তবে এক লাখ টাকার উপরে যদি আপনি সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ করতে চান সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে এমআইসি যুক্ত ব্যাংক চেক দিয়ে ক্রয় করতে হবে ।
মেয়াদ : এই সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ ৫ বছর । চাইলে মেয়াদ শেষ হোওয়ার আগে টাকা তোলা যায় , তবে তা নিয়ম মেনে ।
সঞ্চয়পত্রের উৎসকর : বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১ লাখ টাকার ওপর কিনলে উৎসকর দিতে হয় ১০% হারে ।
লাভের পরিমাণ :
মুনাফার হার মেয়াদ শেষে ১১.২৮%। বছর ভিত্তিক মুনাফার হার যথাক্রমে ১ম বছরে ৯.৩৫%, ২য় বছরে ৯.৮০%, ৩য় বছরে ১০.২৫% এবং ৪র্থ বছরে ১০.৭৫% হারে মুনাফা এটি পাবে মেয়াদ শেষ হোওয়ার আগে ভাঙ্গলে ।

কারা কিনতে পারবে : 
– বাংলাদেশের সকল শ্রেণী পেশার নারী বা পুরুষ কিনতে পারবেন, একজন সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে সবাই ।
– অভিভাবক চাইলে নাবালক বা নাবালিকার নামেও কিনতে পারবেন ।
– আপনার বৈধ আয় থাকলেই আপনি কিনতে পারবেন । একথা বলার কারণ এটায় যে সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে আপনাকে জিঙ্গাসা করতে পারে আপনার আয়ের উৎস কি ? আপনি আপনার আয়ের বৈধ পেপারস দেখাতে পারলে তারা সমস্যা করবে না ।
সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ সীমা : 
– নতুন নিয়মে একজন সাধারণ গ্রাহক একক নামে (পরিবার সঞ্চয়পত্র, ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও বাংলাদেশ ) সর্বোচ্চ ৫০ লাখ এবং যৌথ নামে ১ কোটি টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন না। আর ক্রেতা পেনশনার হলে একক নামে (পরিবার সঞ্চয়পত্র, ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও বাংলাদেশ ) ১ কোটি এবং যৌথ নামে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত কিনতে পারবেন।
– যেকেউ একক নামে ৩০ লাখ বা যুগ্ম-নামে ৬০ লাখ ইনভেস্টমেন্ট করতে পারবে ।
– প্রতিষ্ঠানের জন‍্য এটি কেনার ঊর্ধ্বসীমা নেই ।
সুবিধা : 
– নমিনী নিয়োগ করা যায় ইচ্ছা করলে নমিনী চেন্জ করা যায় ।
– ক্রেতা মারা গেলে নমিনী চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে টাকা তুলতে পারবেন । – এটি পুড়ে গেলে, ধ্বংস বা নষ্ট হলে, চুরি হলে বা হারিয়ে গেলে নকল বা ডুব্লিকেট সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা যায় । 
– এক মেয়াদ শেষ হলে মূল টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃবিনিয়োগ হয়ে যাবে, মুনাফা বা সুদ ব‍্যতীত ।
-সঞ্চয়পত্র এক স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায়, ব্যাংক হতে ব্যাংকে, জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো থেকে জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরোতে ও ডাকঘর থেকে ডাকঘরে ।
– ক্রেতা বা নমিনী চাইলে মেয়াদ শেষ হোওয়ার আগে এটি ভাঙ্গাতে পারবেন ।
সঞ্চয়পত্র কেনার পেপার :
– ক্রেতার ও নমিনীর ২ কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি ।
সঞ্চয়পত্র নগদায়ন ও ভাঙানোর নিয়ম :  আপনি যেই ব্যাংক বা সঞ্চয় ব্যুরো থেকে কিংবা ডাকঘর থেকে সঞ্চয় পত্র কিনেছেন সেখান থেকে আপনি সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারবেন । 
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তোলার নিয়ম : 
নতুন নিয়মে, আপনি যেই অ্যাকাউন্টের চেক দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন  মুনাফার টাকা আপনার ঐ ব্যাংক একাউন্টে চলে যাবে । চাইলে ব্যাংক একাউন্ট বদলানো যাবে, মুনাফার টাকা তোলার ক্ষেত্রে ।
আর ১ লাখ টাকার বেশি হলে ক্রেতাকে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দিতে হচ্ছে। এছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বছর সঞ্চয়পত্রের উৎসকর ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০% করা হয়েছে।

Leave a Comment