বিশ্ব ভালবাসা দিবস সত‍্যি কি হারাম নাকি হালাল ? বিশ্ব ভালবাসা দিবস মুসলমানের করণীয় ও বর্জনীয় Valobasha Dibos Ki halal

বিশ্ব ভালবাসা দিবস সত‍্যি কি হারাম নাকি হালাল ? বিশ্ব ভালবাসা দিবস মুসলমানের করণীয় ও বর্জনীয় Valobasha Dibos Ki halal

বিশ্ব ভালবাসা দিবস সত‍্যি কি হারাম প্রারম্ভিক কথা
মানুষের প্রতি করুণা, দয়া, দাক্ষিণ্য ও সহযােগীতার হাত তাে সেই বাড়িয়ে দিতে পাৱে বস্তুত যার মন মস্তিষ্ক সদা ভালবাসায় টইটুম্বুর থাকে। অতএব, ভালবাসা কোন পঙ্কিল শব্দ নয়, নয় কোন অপিবত্র নালা নর্দমা থেকে উঠে আসা বর্ণগুচ্ছ। ভালবাসা হল এক পূণ্যময় ইবাদাতের নাম। ভালবাসতে হবে প্রত্যেক সৃষ্টিজীবকে সর্বদা, সকল স্থানে, প্রতিটি ক্ষণে। এর জন্য বিশেষ কোন দিন নির্ধারণ করা বা বিশেষ কোন উপায় উদ্ভাবন করা মানব জাতির চিরশত্রু ইলিসের দোসর ছাড়া অন্য কারাে কাজ হতে পারে না।

ভালবাসা দিবসের ইতিহাসঃ

এক নােংরা ও জঘন্য ইতিহাসের স্মৃতিচারণের নাম বিশ্ব ভালবাসা দিবস। ২৬৯ সালে ইতালির রােম নগরীতে ভ্যালেন্টাইন নামে একজন সাধু ছিল। যিনি তরুণ প্রেমিকদেরকে গােপন পরিণয়-মত্রে দীক্ষা দিতেন। তকালীন রোমানরা ছিল পৌত্তলিক, উক্ত ভ্যালেন্টাইন যখন খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ কৱেন তখন রােমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস তাকে মৃত্যুদন্ড দেন। আর ঐ দিনটি ছিল
১৪ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তীতে ৪৭৬ সালে পােপ জেলিয়াস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের স্মরণে ” ভ্যালেন্টাইন ডে ঘােষনা করেন। যা বর্তমানে বাংলাদেশে “ বিশ্ব ভালবাসা দিবস ” হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

বাংলাদেশে ভালবাসা দিবসের আগমনঃ

মাত্র ২৬ বছর পূর্বে ১৯৯৩ সালে এদেশে“ বিশ্ব ভালবাসা দিবস ” এর আমদানী করে একটি প্রগতিশীল সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন। প্রতিযােগিতার বাজারে কেউ পিছিয়ে থাকতে চায় না বলে পরের বছর থেকেই অন্যান্য পত্রিকাও এ দিবসের প্রচারনায় নামে। এ দিবসটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষালয়গুলােতে। পত্রিকান্তরে প্রকাশ ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালবাসা দিবসে রাজধানী ঢাকায় একটি গােলাপ বিক্রি হয়েছে ২০ হাজার টাকা। কলেজ, ভার্সিটির ক্যাম্পাস ও পার্কে, তরুণ-তরুণীরা ব্যাপক আগ্রহ, উদ্দীপনা ও উল্লাসে এ দিবসটি পালন করে। এ দিনে যুবক যুবতীরা যা করে তা শুধু ইসলামের দৃষ্টিতে নয়, তথাকথিত আবহমান কালে বাঙালী সংস্কৃতির আলােকেও সমর্থন যােগ্য নয়।

ভালবাসা দিবসে বাংলাদেশ

পশ্চিমা দেশগুলাের পাশাপাশি প্রাচ্যের দেশগুলােতেও এখন এ অপসংস্কৃতির মাতাল ঢেউ বয়ে চলছে। ভালবাসা দিবসে ভালবাসায় উন্মান থাকে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলাে। পার্ক, রেস্তোরা, ভার্সিটির করিডাের, টিএসসি, ওয়াটার ফ্রন্ট, ঢাবির চারুকলার বকুলতলা, আশুলিয়াসহ প্রায় সর্বত্রে থাকে প্রেমিক প্রেমিকাদের উপচে পড়া ভিড়। ভালবাসা দিবস
উদযাপন উপলক্ষে দেশের নামি দামি হােটেলের হল রুমে বসে নােংরা, জঘন্য, নির্লজ্জ, বেহায়াপনা তারুণ্যের মিলন মেলা। জম্পেশ অনুষ্ঠানের সূচিতে থাকে লাইভ ব্রান্ড কনসার্ট, ডেলিশাস, ডিনার এবং নির্লজ্জ উদ্যম নৃত্য। এছাড়াও ঢাবির টিএসসি এলাকায় বিকাল বেলা ভালবাসা র্যালি বের করা হয়। এমনকি বছর ক্লোজ আপের পক্ষ থেকে প্রেমিক যুগলকে খ্রী
রিকশা ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রঙ মাখা যৌবনের ভালবাসা দিবস উদ্যাপনের উদ্যমতা এখানেই শেষ নয়, ২০১৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচু মন মানসিকতার শিক্ষার্থীরা “ প্রেম বঞ্চিত সংঘের ” ব্যানারে মিছিল করে। যার শ্লোগান ছিল“ প্রেমের ক্ষেত্রে সকল শিক্ষার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। “

তালবাসা দিবস পালনের ক্ষতিকর কিছু দিকঃ

১. ভালবাসা নামের এ শব্দটির সাথে এক চরিত্রহীন লটের স্মৃতি জড়িয়ে যারা ভালবাসার জয়গান গেয়ে চলেছেন পৃথিবীবাসীকে তারা সােনার পেয়ালায় করে নীল বিষ পান করিয়ে চলেছেন।
২. তরুণ-তরুণীদের সভা যৌন আবেগকে সুড়সুড়ি দিয়ে সমাজে বিশৃলা ও ফাসাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ, মহান আল্লাহ তা’আলা ফাসাদ সৃষ্টিকারীকে ভালবাসেন না। (সূরা আল মায়িদা: ৬৪)
৩. নৈতিক অবক্ষয় দাবানলের মত ছড়িয়ে যাচ্ছে।
৪. নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করছে। যারা ঈমানদারদের সমাজে এ ধরনের অশ্লীলতার বিস্তার ঘটায়, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের জন্য মহান আল্লাহ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। (সুরা আন নুরঃ ১৯)
৫. তরুণ-তরুণীরা বিবাহপূর্ব দৈহিক সম্পর্ক গড়তে কোন রকম কুণ্ঠাবােধ করছে না। অথচ, তরুণ ইউসুফ (আঃ) কে যখন মিশরের এক রাণী অভিসারে ডেকেছিল তখন তিনি কারাবরণকেই এহেন অপকর্মের চেয়ে উত্তম মনে করেছিলেন। যার পূর্ণ বর্ণনা সূরা ইউসুফের ২৩-৩৪ নং আয়াত সমূহে এসেছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে ভালবাসা দিবসঃ

কাউকে ভালবাসা এবং কারাে সাথে শত্রুতা রাখার মানদন্ড হলাে একমাত্র আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন।
সুতরাং বর্তমান বিশ্বে ভালবাসা দিবসের নামে যে অবৈধ সম্পর্ককে মজবুত করা হচ্ছে তা ইসলামের দৃষ্টিতে কোন ভাবেই বৈধ নয়।কারন এই ভালবাসা দিবস এসেছে খ্রীষ্টানদের পক্ষ থেকে আর এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “ যে ব্যক্তি অন্য কোন ধর্মাবলম্বীদের অনুকরণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত হবে”। (আবু দাউদ -৪০২১, সহীহ) অপরদিকে আল্লাহ তায়ালা বলেন: ইহুদী এবং খ্রীষ্টানরা কখনােই সস্তুষ্ট হবেনা যতক্ষন না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ
করেন। সূরা আল বাকারাহ -১২০] পরস্পরকে আল্লাহর জন্যই ভালবাসতে হবে এ ব্যাপারে রাসূল (সাঃ) বলেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা বলবেন, “ যারা আমার মহব্বতে পরস্পরকে ভালবেসেছিল তারা কোথায়? আজ আমি তাদেরকে আমার বিশেষ ছায়াতলে ছায়া দিবাে”। (মুসলিম- ৪৬৫৫)। তাহলে খ্রীষ্টানদের থেকে আসা এই জঘন্য, নােংরা, কুরুচিপূর্ণ  “ ভালবাসা দিবস’ পালন করে আমরা কিভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশা করতে পারি? বরং এ দিবস পালন করার অর্থই হলাে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ছুড়ে ফেলা। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “ তােমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিওনা” (সূরা আল বাকারাহ-১৯৫)

পরিশেষে আমাদের আহবান

মহান আল্লাহ বিভিন্ন আয়াতের মাধ্যমে আমাদেরকে এইসব ব্যভিচারমূলক কর্মকান্ড সমূহের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। আমরা সেই আয়াতগুলাে পড়ছি। অথচ তা থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করছি না। অথবা সেলােকে আমরা সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে চলেছি। কয়েক বছর পূর্বে পাজা উপত্তকায় ইসরাইল কর্তৃক মুসলিম গণহত্যা, সম্প্রতি মায়ানমারে মুসলিম নিধনসহ বিশ্বের
বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিমদের উপর অমুসলিমদের গণহত্যার বিষয়গুলাে বর্তমান বিশ্বের জীবিত
মুসলিমদের জন্য যেন ছিলাে এক চপেটাঘাত এর মতাে। যেন মহান আল্লাহ আমাদেরকে ধারাবাহিকভাবে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যাতে আমরা আমাদের মূলের দিকে ফিরে যেতে পারি। কিন্তু স্বল্প সময়ের মধ্যেই আমরা সকল সতর্কতার বাণী ভুলে যাই। দুঃখজনক হলেও সত্য, আর কয়েক দিন পরেই গােলাপি ও লাল রঙের টেডি বিয়ারগুলােই হবে আমাদের মনােযােগের
কেন্দ্রবিন্দু। কোন মুসলিমের পক্ষে উদযাপন করা আদৌ সমীচিন তাই হে প্রিয় মুসলিম ভাই ও বােন আপনাদের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহবান এই যে, স্মরণ করুন কিয়ামতের দিনের সেই বিভীষিকাময় মূহুর্তের কথা যে দিন বা তার সম্ভান থেকে পলায়ন করবে, প্রাণের বন্ধু তার বন্ধু থেকে পলায়ন করবে। তাই ফিরে আসুন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে এবং পরস্পরকে ভালবাসুন আল্লাহর জন্য। আল্লাহ যেন আমাদের হৃদয়ে তাদের জন্য ভালবাসা সৃষ্টি করে দেন যাৱা পরকালে হবেন জান্নাতী। আমিন।

প্রচারেঃ
শুব্বান রিসার্চ সেন্টার
আঞ্চলিক কার্যালয়, মিরপুর শাখা। ৩/৬২৮, ব্লক-ধ, মিরপুর -১২, পল্লবী- ঢাকা
www.shubbanbd.org shubbanbd.com@gmail.com
 

Leave a Comment