বিয়ে নিয়ে চোখের লজ্জা ছেলে মেয়েদের ? কেন তাড়াতাড়ি বিয়ে করা উচিত ?

 

তাড়াতাড়ি বিয়ে করা কেন উচিত বিয়ের বয়স ?

 তাড়াতাড়ি বিয়ে করা কেন উচিত বিয়ের বয়স ?

অবিবাহিতদের জন্যঃ
– কেউ একজন প্রতিটা মুনাজাতে আপনাকে চাইছে।
– আপনার ভালো গুণগুলো বলে বলে রবের কাছে ফরিয়াদ করছে।
– সুরা ফুরকানের ৭৪ নাম্বার আয়াত পড়ে পড়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
– আপনাকে নিয়ে জান্নাতে থাকার স্বপ্ন দেখছে।
– আপনাকে চেনে না জানে না, এমনকি কখনো দেখে নি অব্দি, তবুও আপনার জন্য টান অনুভব করছে।
– আপনাকে পাওয়ার আগেই সে আপনাকে ভালোবেসে বসে আছে।

তবে আপনি কেনো হতাশ হচ্ছেন? আপনিও চেয়ে যান না, অজানা সেই জীবনসঙ্গী-টাকে। জুম্মাবার আছরের পর থেকে মাগরীবের সময়টা দোয়া কবুলের। খুব করে চান, রবের কাছে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ করেন। আল্লাহর কাছে কোনো জিনিসের অভাব আছে বলুন? আমাদের শুধু চেয়ে নিতে হবে। এমনভাবে চান যেন আপনার রব খুশি হয়ে যান। রবকে সন্তুষ্ট করতে পারলেই তো মিলবে পরম আকাঙ্ক্ষিত সেই জন!

“অতঃপর তোমার রব তোমাকে এতো দিবেন যে তুমি সন্তুষ্ট হবে।” ( সুরা আদ-দুহাঃ৫)

বিয়ে নিয়ে কোন ছেলে বা মেয়ে যখন চক্ষুলজ্জা ভেঙে নিজের পরিবারকে জানায় তখন তাদের রিয়েকশানটা চোখে পড়ার মত।

উনারা ধরেই নেন যে তার ছেলে বা মেয়ে যৌন উন্মাদনায় পাগল হয়ে গেছে, তাই লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে বেহায়ার মত পরিবারের কাছে নিজের বিয়ের ব্যাপারে বলতে পারছে।

তাদেরকে কিছু কথা বলতে চাই।

এখনকার যুগে যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য বিয়ের কোন প্রয়োজন পড়ে না।

স্কুল কলেজ ভার্সিটির ফ্রি মিক্সিং এবং অনৈতিক প্রেম ভালোবাসা সাথে সহজলভ্য পতিতালয়ই যথেষ্ট,  অনায়াসে নিজের সেক্সুয়াল ডিসায়ার মেটানো জন্য।

অনেকে করেও আসছে। তাহলে আপনার পরিবারের ছেলে বা মেয়ে কেন বেহায়ার মত কম(!) বয়সেই বিয়ের কথা আপনাকে বলছে? ভেবে দেখেছেন কখনও?

জ্বী, আপনার ছেলে বা মেয়ে পাগল হয়েছে। কারণ তারা তাদের সৃষ্টিকর্তাকে ভয় পায়। পাপ কাজকে ভয় পায়। অনৈতিক সম্পর্ককে ভয় পায়।

তা না হলে নির্লজ্জের মত আপনার কাছে এসে বলতো না যে মা আমার বিয়ে দাও কিংবা বাবা আমি বিয়ে করতে চাচ্ছি।
কবেই প্রেমের নামে শারীরিক সম্পর্ক করে ফেলত কিংবা পতিতালয়ে ভীড় জমাতো।

আমাদের সমাজের ধারণা অল্প বয়সে আবার বিয়ে কিসের? কিসের শারিরীক চাহিদা?

২১ এর আগে ছেলেদের আর ১৮ এর আগে মেয়েদের বিয়ে তাই আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ছেলেমেয়েদের যদি কোন শারীরিক চাহিদাই না থাকবে তাহলে প্রকৃতি কেনই বা ১২ বছরের মেয়েকে পিরিয়ডের মাধ্যমে গর্ভধারণের জন্য তৈরি করে?
আর ছেলেদের কেনই বা ১৪-১৫ বছর বয়সে হরমোনের কারণে লোম ও ধাতুপাতের মত বিষয় ঘটে? এগুলো কি এমনি এমনি?

আরেকটা কমন ডায়লগ শুনতে পাওয়া যায় ছেলেদের ক্ষেত্রে,” আয় রোজগার ছাড়া বিয়ে করে বউকে খাওয়াবি কী? “
মানে ছেলে মেয়ে প্রেম করুক, পকেটমানির কথা বলে টাকা দিয়ে পার্কে রেস্তোরাঁয় কিংবা গোপন কোন হোটলে সময় কাটাক তাতে উনাদের কোন আপত্তি নেই। আপত্তি কেবল একজন মানুষের ভার নেয়াতে। ছেলের চরিত্র চুলায় যাক।

অনেক বাবা মা তো মনে করেন অন্যসব ছেলেরা পারলে আমার ছেলে কেন পারবে না? ধৈর্য বলতে একটা শব্দ আছে না?

যৌনতাকে তারা ডাল ভাত মনে করেন। যেন কোন ব্যাপারই না।

৩০ পার করে বিয়ে করলে কোন সমস্যাই না তাদের কাছে বরং তারা আরও খুশি!

এখন ভাবুন একটা ছেলে যার শারিরীক প্রয়োজন শুরু হয় ১৫-১৬ বছর বয়সে তাকে জোর করে নানা অজুহাতে বিয়ে দেয়া হচ্ছে না সে তথাকথিত প্রতিষ্ঠিত হয় নি বলে।

এখন আমার প্রশ্ন ৩০ অব্ধি ছেলেটা তাহলে কি করবে? সাধু সন্ন্যাসী হবে নাকি ভেতরে ভেতরে খারাপ হবে?

একজন শায়েখ বলেছিলেন (নামটা মনে আসছে না) যে,  কোন ছেলে যদি বিয়ে ছাড়া ২৫ বছর অতিক্রান্ত করার পর বলে যে তার কোন খারাপ অভ্যাস নাই তাহলে তাকে আমার সামনে নিয়ে এসো, আমি তার হাতে বায়াত গ্রহণ করব।

পর্ণগ্রাফি, চারিদিকের উত্তেজনা পূর্ণ নারীদের খোলামেলা চলাফেরা, নিজের চরিত্রকে কিভাবে আটকে রাখা যায় কেউ একজন শিখিয়ে দিয়ে যান প্লিজ।
ছেলেরা ফেরেশতা না, তারা মানুষ, তাদেরকে সৃষ্টিকর্তা সবকিছু দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। নিজের নজর হেফাজত করতে কত যুদ্ধ যে শয়তানের সাথে করা লাগে, যারা করে তারা ভাল বলতে পারবেন।

বিয়ের মাধ্যমে লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা পায়, চক্ষু শীলত হয়, মনে দেহে প্রশান্তি আসে। জীবন নিয়ে, ভবিষ্যৎ নিয়ে সুস্থির পরিকল্পনা করা যায়।

সমাধান কিন্তু কুরআনে আল্লাহ বলে দিয়েছেন অথচ আমরা আল্লাহর বিধান বাদ দিয়ে নিজের মত করে নতুন বিধান মেনে চলছি যার নাম দিয়েছি সমাজ।

মহান আল্লাহ তায়া’লা বলেন,

“আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।” (সুরা আন নূর,৩২)

রিজিকের ঘোষণাও আল্লাহ দিয়ে দিচ্ছেন অথচ আমরা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে আল্লাহকে ভুলে যাচ্ছি। আমাদের বিবেক কবে জাগ্রত হবে?
তাই সকল অভিভাবক বলছি,আপনারা আপনাদের সন্তান দের কে ইসলামী ভাবে উপযুক্ত বয়েস এ বিয়ে দিয়ে দিন।
না হলে আপনার সন্তান কোন জিনার মত পাপ করলে আপনি ও এর ভাগিদার হবেন!

আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দিক,আমিন ইয়া রব!!

🌹🌹🤲🤲🌹🌹

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *