মুনিবের সাথে ক্রীতদাসীর ফিজিক্যাল রিলেশনের ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য Islamic Qustion Answer Bangla

প্রশ্ন: মুনিবের সাথে ক্রীতদাসীর ফিজিক্যাল রিলেশনের ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য জানতে চাই।

উত্তর: ইসলামই সর্বপ্রথম দাসপ্রথাকে সীমিত করে। দাসপ্রথা পৃথিবীর প্রায় শুরু থেকেই চলে আসছে। আমরা জানি, যখন থেকে পুঁজিব্যবস্থা তৈরি হয়, সামন্তব্যবস্থা তৈরি হয়, তখন থেকেই দাসপ্রথা জন্ম নেয়। বিভিন্ন ধর্মে, বাইবেলে, বেদে, গীতায়  দাসপ্রথাকে সমর্থন করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা দাসপ্রথাকে একেবারে মিটিয়ে দেন নি। কারণ, তখন দাসপ্রথার উপর অর্থনীতির ভিত্তি ছিল। পাশাপাশি দাসদাসী যেন নতুন করে না হয়, যারা আছে তারা যেন মুক্ত হয় এ জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা দিয়েছেন। বাধ্যতামূলক দাস মুক্ত করা, যাদের সামর্থ্য আছে তাদের মুক্ত করে দেয়া…. তারমধ্যে একটা হল, কারো যদি ক্রীতদাসী থাকে, তাকে যদি স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করে এবং তার গর্ভে সন্তান হয়Ñ ওই দাসী আর দাসী থাকে না। সে মুক্ত হয়ে যায়। এই জন্য দাসীকে কেউ স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলে সে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। এবং এর মাধ্যমে তার মুক্তি পাওয়ার একটা পথ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ইসলামের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। বিবাহের মতোই। অনেক শর্তসাপেক্ষ। আর যেহেতু দাস প্রথাই নেই, কাজেই কোনো স্বাধীন মানুষকে ক্রয় করা জঘন্যতম হারাম। বিক্রয় করা জঘন্যতম হারাম। এর মাধ্যমে কোনো দাসদাসী হয় না। যেগুলো ছিল তাদেরকে আস্তে আস্তে কমানো হয়েছে। এক পর্যায়ে উঠে গিয়েছে। কাজেই নতুন করে দাস বা দাসী হিসেবে কাউকে গ্রহণ করা, স্বাধীন মানুষকে বিক্রয় করা, ধরে এনে বিক্রয় করা এগুলো জঘন্যতম অপরাধ। এর মাধ্যমে কেউ দাস হিসেবে গণ্য হয় না। ইসলাম এই প্রথাকে খুবই নিরুৎসাহিত করেছে। প্রথমত একটা চৌবাচ্চায় পানি আসে। পানির নালাগুলো বন্ধ করে দিলে পানি আসা বন্ধ হয়ে যাবে। এরপরে যদি বেরোনোর ড্রেন করে দেন, তাহলে আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। অনেক সময় আমাদের মনে হয়, মদের মতো দাসপ্রথা একবারে হারাম করে দিলেই তো হত। সমস্যা হয়েছিল যে, তৎকালীন অর্থনীতি, ব্যবসা, বাণিজ্য, ট্রেড- সবকিছু এই দাসব্যবস্থাপনার উপরে ছিল এবং দাসেরাও পরনির্ভর ছিল। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন:
 
وَالَّذِينَ يَبْتَغُونَ الْكِتَابَ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ فَكَاتِبُوهُمْ إِنْ عَلِمْتُمْ فِيهِمْ خَيْرًا 
 
যদি কোনো ক্রীতদাস মুক্ত হতে চায়, তোমরা যদি তাদের যোগ্যতা পাও, তাদেরকে মুক্ত হতে সাহায্য করো। এবং সর্বশেষ ইনস্টলমেন্টগুলো তোমরা দিয়ে দাও। এটা সূরা নূরে আল্লাহ পাক বলেছেন। (সূরা নূর, আয়াত-৩৩)।
ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ, জিজ্ঞাসা ও জবাব 

Leave a Comment