হাশরের ময়দানে বান্দার হিসাব নিকাশ ও ফলাফল । নামাজ পড়ার গুরুত্ব ইসলামে । Hasorer Moidan

হাশরের ময়দানে বান্দার হিসাব নিকাশ ও ফলাফল । নামাজ পড়ার গুরুত্ব ইসলামে

নামাযের হিসাব ও নফলের মাহাত্ম্য ইসলামে

কেয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বাগ্রে তার নামাযের হিসাব গ্রহণ করা হবে। সুতরাং নামায যদি সঠিকভাবে পড়া যায়, তা হলে সে সাফল্য লাভ করবে। আর যদি নামায় ভালভাবে পড়া না যায়, তা হলে সে হবে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর ফরয নামাযে কোন কমতি বা ঘাটতি থাকলে তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমার বান্দার কোন নফল নামায আছে কি না ? সন্ধান কর। বান্দার কোন নফল নামায পাওয়া গেলে, সে নফল দ্বারা ফরজের ঘাটতি পূরণ করা হবে ।  নামাযের হিসাব গ্রহণের পর তার অন্যান্য আমলের
হিসাব নেয়া হবে। -আৰু গাউন, মেশকাত। নামাযের হিসাব গ্রহণের পর অনুরূপভাবে যাকাতেরও হিসাব গ্রহণ করা হবে । তারপর এভাবেই গ্রহণ করা হবে অন্যান্য আমলসমূহের হিসাব। -আবু দাউদ, মেশকাত।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, কেয়ামতের দিন মানবমন্ডলীকে একই ময়দানে সমবেত করা হবে। তখন জনৈক ঘােষক উচ্চৈঃস্বরে ঘােষণা করবে যে, তারা কোথায় যাদের পাজর বিছানা হতে বিচ্ছিন্ন থাকত। (অর্থাৎ যায়। রাতে শয্যা ত্যাগ করে নামায ও অন্যান্য বন্দেগীতে মশগুল থাকত তারা কোথায় ? এ ঘােষণা শুনে সমবেতদের মধ্য থেকে এ গুণাবলীর লােকেরা উঠে দাড়াবে, যাদের সংখ্যা হবে খুবই কম। এরা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। অতঃপর অন্যান্য লােকের হিসাব গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হবে। -মেশকাত, বায়হাকী ।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আমার প্রতিপালক আমার কাছে অঙ্গীকার করেছেন যে, তোমার উম্মতের মধ্যে হতে সত্তর হাজার লােক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের অদৌ কোনরূপ শাস্তি হবে না । এদের প্রত্যেকের সাথে থাকবে আরাে সত্তর হাজার, যারা এদের ফযিলতের মাধ্যমে পার পেয়ে যাবে। আর আমার প্রতিপালকের কুদরতী হাতের তিন মুঠো উম্মত ও হিসাব-নিকাশ ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
—তিরমিযী, আছমন।

সহজ হিসাব হাশরের মাঠে 

হযরত আয়েশা (রা) বলেন, আমি কোন এক নামাযের পর নবী করীম (সঃ) -কে এভাবে দোআ করতে শুনেছি,

 “ হে আল্লাহ! আমার থেকে সহজ হিসাব গ্রহণ কর।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! হিসাব সহজ হওয়ার অর্থ কি? তিনি বললেন, সহজ হিসাব হল আমলনামার প্রতি দৃষ্টি দিয়ে তা মাফ করে দেয়া। (কোন প্রকার তল্লাসী ও সন্ধান না করা।) যার চুলচেরা বিচার করে হিসাব গ্রহণ করা হবে। তার ধ্বংস অনিবার্য। —আহমদ,মেশকাত

কঠিন হিসাব? হাশরের মাঠে 

হযরত আয়েশা (রা) বলেন, নবী করীম (সঃ) বলেছেন, হাশরের ময়দানে যার থেকে সঠিকভাবে হিসাব গ্রহণ করা হবে, তার ধ্বংস অনিবার্য। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “ যার ডান হাতে আমলনামা দেয়া হবে, তার হিসাব অতিসত্তর সহজে নেয়া হবে। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, কিছু কিছু হিসাবদাতাও নাজাত লাভ করবে। এ কথার জবাবে নবী করীম (সঃ) বললেন, সহজ হিসাব হওয়ার অর্থ হল- বান্দার সম্মুখে শুধু আমলনামা পেশ করার পর পরই তাকে ছেড়ে দেয়া। (কোন হিসাব নিকাশ না হওয়া) কিন্তু যার হিসাবে খুবই সূক্ষ্মভাবে হবে, তার ধ্বংস অনিবার্য। —বােখারী, মুসলিম।

কেয়ামতের দিন নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে তার নিকটবর্তী (হাশর ময়দানের লােকদের থেকে আড়াল করে বলবেন, তােমার কি অমুক গুনাহের কথা মনে পড়ে? তােমার কি অমুক গুনাহের কথা মনে পড়ে? সে উত্তরে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! সে গুনাহের কথা আমার স্মরণ আছে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তার থেকে গুনাহের স্বীকারােক্তি নেবেন। তখন সে মনে মনে বিশ্বাস করবে যে, আমার ধ্বংস অনিবার্য। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, দুনিয়ায় আমি তােমাকে আড়াল করে রেখেছিলাম। তােমার গুনাহসমূহ প্রকাশ হতে দেইনি। আর এখন আমি তােমাকে ক্ষমা করেছি। এরপর তার পুণ্যময়
আমলনামা তার হাতে দেয়া হবে। কিন্তু কাফের ও মুনাফেক লােকদের ব্যাপর গােপন রাখা হবে না বরং সমস্ত লােকদের সম্মুখেই স্বজোরে ঘােষণা দিয়ে বলা হবে, এরা নিজেদের প্রতিপালক সম্পর্কে নানা প্রকার মিথ্যারােপ করত। তােমরা জেনে রাখ, জালেমদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ। —বােখারী, মুসলিম।

কোন মাধ্যম ছাড়াই সামনা সামনি আল্লাহর জিজ্ঞাসার জবাব দিতে হবে

হযরত আদী ইবনে হাতেম (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, তােমাদের মধ্যে এমন কোন লােক নেই, যে স্বীয় প্রতিপালকের সাথে হিসাবের ব্যাপারে কথা বলবে না। তার এবং তার প্রতিপালকের মধ্যে কোন মাধ্যমও আড়াল থাকবে না। এ সময় মানুষ যার যার ডান দিকে তাকালে, নিজের আমল ছাড়া আর কিছুই দেখবে না। আর বাম দিকে তাকালে কেবল তা-ই দেখতে পাবে, যা সে পূর্বে করে পরকালের জন্য পাঠিয়েছে। আর সম্মুখ দিকে তাকালে দেখতে পাবে জাহান্নাম। (অতঃপর নবী করীম (সঃ) বললেন) অতএব তােমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচার চেষ্টা কর। যদি এক টুকরা খেজুরও আল্লাহর পথে ব্যয় করতে পার, তা করে জাহান্নাম থেকে বাঁচার চেষ্টা কর। —বােখারী, মুসলিম।

কারাে প্রতিই অবিচার করা হবে না

যার যার পাপ-পূৰ্ণকে অতি সুক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করা হবে হাশর ময়দানে বান্দার বিচার করণে কারাে প্রতি বিন্দুমাত্রও অবিচার করা হবে না। কোরআন মজীদে এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“ সেদিন (মহা বিচারের দিন) কোন মানুষের প্রতি জুলুম করা হবে না। তােমরা দুনিয়ায় যা কিছু করতে, কেবল মাত্র সেসব কর্মেরই প্রতিদান লাভ করবে।”( সূরা ইয়াসীন ) । অন্য এ কোন ব্যক্তি অণু-পরমাণু পরিমাণ পুণ্যময় কাজ করলে তাকে তা মহা বিচারের দিন দেখান হবে। আর কেউ অণু-পরমাণু পরিমাণ খারাপ কাজ করলে তা-ও তাকে দেখান হবে।—সূরা যিলযাল।

সূরা মুমিনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“ আজকের দিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে সে যা কিছু কামাই করেছে তার প্রতিদান দেয়া হবে। কারাে প্রতিই আজ অবিচার করা হবে না। হিসাব গ্রহণে আল্লাহ খুবই দ্রুতগামী। ” —সূরা মুমিন- ২য় রুকু।

 

Leave a Comment