হাশরের ময়দানে আল্লাহর দেওয়া পুরস্কার মুমিমদের ও আল্লাহর আরশের ছায়া Hasorer Moidan

হাশরের ময়দানে আল্লাহর দেওয়া পুরস্কার মুমিমদের ও আল্লাহর আরশের ছায়া Hasorer Moidan

গােসসা হজমকারীর পুরস্কার

নবী করীম (সঃ) বলেছেন, “ যে ব্যক্তি গােস্বাকে হজম করে, অথচ কারণ অনুযায়ী তা করার ক্ষমতা তার রয়েছে। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সমস্ত মানুষের সামনে তাকে ডেকে বলবেন, তােমার মনে যে হুরকে পেতে চায়, তুমি তাকে গ্রহণ কর। –তিরমিযী, আবু দাউদ।

মক্কা মদীনায় মৃত্যুবরণকারীর পুরস্কার

নবী করীম (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি মদীনায় বসতি স্থাপন করে সেখানকার দুঃখ-কষ্টকে ধৈর্যের সাথে বরণ করে নেয়; কেয়ামতের দিন আমি তার পক্ষে সাক্ষ্য দেব এবং সুপারিশ করব। আর যে ব্যক্তি মক্কা বা মদীনায় মৃত্যুবরণ করে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে নিরাপদ ব্যক্তিদের মধ্যে সামিল করে উঠাবেন। —বায়হাকী -শােয়াবুল ঈমান।

হজ্জের সফরের সময় মৃত্যুবরণকারীর পুরস্কার

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, জনৈক সাহাবী (রা) নবী করীম (সঃ) -এর সাথে হজ্জে গমন করে আরাফার ময়দানে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ বাহন থেকে পড়ে তার ঘাড় ভেঙ্গে মৃত্যু ঘটে। তখন নবী করীম (সঃ) বললেন, তােমরা একে বড়ই পাতার পানি দ্বারা গােসল করাও। আর তার এহরামের দু’খানা কাপড় দ্বারাই তাঁকে কাফন পরাও। কিন্তু তার দেহে সুগন্ধ লাগাবে না এবং তার মাথাও ঢাকবে না। কেননা কেয়ামতের দিন সে হজ্জের তালবিয়া (১) পাঠ করতে করতে কবর থেকে উঠে হাশর ময়দানে উপস্থিত হবে। -বােখারী।

শহীদগণের মর্যাদা ও পুরস্কার

হযরত আবু হােরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহর পথে (জিহাদে) কেউ আহত হলে, আর আল্লাহ-ই ভাল জানেন যে, কে তার পথে জখম হয়েছে। অর্থাৎ মনের নিয়তের অবস্থাটি আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন। সে কেয়ামতের দিন ঐ কাঁচা জখমসহ এমনভাবে উথিত হবে যে, তার জখম হতে তখনাে রক্তধারা প্রবাহিত হতে থাকবে। আর সে রক্তের রং লাল বর্ণই হবে এবং তা থেকে মেশকের সুগন্ধ পাওয়া যাবে। -বােখারী, মুসলিম।

অন্ধকারে মসজিদে গমনকারীদের পুরুষ্কার 

রাসূল করীম (সঃ) বলেছেন, “ রাতের অন্ধকারে যারা মাসজিদে গমন করে, তাদেরকে এ সুসংবাদ দাও যে, কেয়ামতের দিন তাদেরকে পুরাপরিভাবে নূর দান করা হবে।” তিরমিযী, আবু দাউদ। 

মুয়াজ্জিনের পুরস্কার 

হযরত মুয়াবীয়া (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “ নামাযের জন্য যারা আযান দেয়, কেয়ামতের দিন তাদের গর্দান সবার চেয়ে বেশী লম্বা হবে।” মুসলিম।

আল্লাহ প্রেমিকের পুরস্কার

নবী করীম (সঃ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “ যারা আমার মহব্বত্রে কারণে একে অপরকে ভালবাসে, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য নূরের মিম্বর (আসন) হবে। তাদের এমন সম্মান ও মর্যাদা দর্শনে নবী এবং শহীদগণও লােভাতুর হবেন (কেননা তারা তাে নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে নূরের মিম্বরে বসবেন। আর নবী-রাসূল ও শহীগণ অন্যান্য লােকদের সুপারিশের জন্য ব্যস্ত থাকবেন।) তিরমিযী মেশকাত।

আরশের ছায়ায় যারা থাকবেন 

হযরত আবু হােরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, সাত প্রকার লােককে আল্লাহ তাআ’লা হাশর ময়দানে নিজের আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন। যখন সে ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না, তারা হলেন
(১) মুসলমানদের সুবিচারক ও ইনসাফগার শাসক ও বাদশা।
(২) সেই যুবক যে আল্লাহ তাআলার বন্দেগীতে জীবন অতিবাহিত করেছেন।
(৩) যে ব্যক্তির অন্তর মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর পুনরায় মসজিদে প্রবেশ না করা পর্যন্ত মসজিদের সাথেই সংশ্লিষ্ট থাকে। অর্থাৎ তার অন্তর থাকে মসজিদে, দেহ থাকে বাইরে।
(৪) যে দু’ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালবাসেন এবং সেই মহব্বতের জন্যই তারা একত্রিত হন। এবং সেই মহব্বতের কথা স্মরণ রেখেই পরস্পর থেকে পৃথক হন।
(৫) যে ব্যক্তি নিভৃতে একাকী অবস্থায় আল্লাহর যিকির করে এবং তার ভয়ে নয়ন যুগল হতে অশ্রু প্রবাহিত হয়।
(৬) যে ব্যক্তিকে কোন পরমা সুন্দরী ও অভিজাত শ্রেণীর মহিলা ব্যভিচারের জন্য আহ্বান জানালে সে সুস্পষ্টভাষায় এ জওয়াব দেয় যে, আমি আল্লাহ তাআ’লা কে ভয় করি।
(৭) যে ব্যক্তি এমন সংগােপনে দান করে যে, তার বাম হাত জানে না তার ডান হাত কি দান করেছে। —বােখারী, মুসলিম।

নূরের টুপি যিনি পাবেন যিনি পুরস্কার

হযরত মুয়াজ জুহায়নী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরআন অধ্যয়ন করে এবং তদানুযায়ী আমল করে, কেয়ামতের দিন তার পিতা-মাতাকে এমন এক নূরের টুপি পরান হবে, যার জ্যোতি সূর্যের সেই কিরণের চেয়েও উত্তম হবে, যে কিরণ দুনিয়ার তােমাদের ঘরে প্রবেশ করে। এখন তােমরাই বল যে, তাদের পিতা-মাতার অবস্থাই যখন এমন হবে, তখন কোরআন মজীদ অধ্যয়ন করে তদানুযায়ী যে আমল করে, তার সম্মান ও মর্যাদা কত উন্নত হতে পারে? —আহমদ আবু দাউদ।

হালাল উপার্জকের পুরস্কার?

হযরত আবু হােরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি হালাল ও বৈধ পন্থায় এজন্য দুনিয়ার সহায়-সম্পদ রােযগার করে যে, সে নিজে করা থেকে বেঁচে থাকবে, নিজের পরিবার পরিজনের জন্য ব্যয় করবে এবং নিজের পাড়া-প্রতিবেশীর প্রতি অনুগ্রহ করবে। সে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার সাথে এমনভাবে সাক্ষাৎ করবে যে, তার চেহারা হবে চতুর্দশী পুর্ণিমার শশির ন্যায় আলােকউজ্জ্বল। আর কোন ব্যক্তি যদি বৈধ পন্থায় এ জন্য দুনিয়ার সহায় সম্পদ রােযগার করে যে, সে অন্যান্য লােকের তুলনায় বেশি সম্পদ সঞ্চয় করবে এবং অন্যান্য লােকদের উপর গৌরব ও অহংকার প্রদর্শন করবে, তাহলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার সাথে তার এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ হবে যে আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট ও রাগান্বিত থাকবেন। বায়হাকী- শােয়াবুল ঈমান।

Leave a Comment