হাশরের ময়দানে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালামের সুপারিশ করার ঘটনা Hasorer Moidan Nobi Muhammad

নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালামের মর্যাদা হাশরের ময়দানে Hasorer Moidan Nobi Muhammad

হাশরের ময়দানে নবী মুহাম্মদ মুহাম্মদ (সঃ) মর্যাদা 

হাশর ময়দানে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (স) শাফাআতের মর্যাদা ও মাকামে মাহমুদ লাভ করবেন এবং তৎসঙ্গে উম্মতে মুহাম্মদীও উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী হবে। হযরত আবু সাঈদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, কেয়ামতের দিন হাশর ময়দানে আমিই হব সমস্ত আদম সন্তানের নেতা, কিন্তু এজন্য আমি কোন গৌবর ও অহংকারবােধ করছিনা। (বরং নেয়ামত প্রকাশের উদ্দেশ্যেই তা বলা হল।) আমার হাতে থাকবে আল্লাহ তাআলার হামদের (প্রশংসার) ঝাণ্ডা। এজন্যও আমি গৌরব করছি না। সেদিন প্রত্যেক আদম সন্তান এবং অন্যান্য সবাই আমার ঝাণ্ডাতলে থাকবে। আর কেয়ামতের দিন কবর হতে সর্বাগ্রে আমিই উথিত হব। এটা আমি গৌরব অহংকার করার জন্য বলছি না (বরং সত্য প্রকাশ ও নেয়ামতের শুকরিয়ার জন্য বলছি)। (তিরমিযী, মেশকাত)

কেয়ামতের দিন কি করবেন আল্লাহর রাসুল :

নবী করীম (সঃ) বলেন আল্লাহ তাআলা পূর্বের ও পরের সমস্ত মানুষকে একটি উন্মুক্ত ময়দানে জমায়েত করবেন। তখন একজন দর্শক সবাইকে দেখতে পাবেন এবং একজন ঘােষক তার আহবান সবাইকে শােনাতে পারবেন। তখন আকাশের সূর্য হবে তাদের নিকটবর্তী। এ সময় মানুষ এত কঠিন বিপদ ও অস্থিরতার মধ্যে থাকবে যা ধৈর্য সহিষ্ণুতার অতীত। এহেন ব্যাকুলতা ও অস্থির অবস্থায় মানুষ পরস্পর বলাবলি করবে, তােমরা কিরূপ বিপদগ্রস্ত তা সুস্পষ্ট, অতএব তােমাদের কেউ কি এমন কোন সম্মানিত ব্যক্তিকে সন্ধান করে পারে না, যে প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে। অতঃপর একজন অপরজনকে বলবে, তােমাদের আদি পিতা আদম (আ) এ কাজের যােগ্য ব্যক্তি। তােমরা তাঁর কাছে গিয়ে আবেদন কর। অতএব তাঁর কাছে এসে লােকেরা বলবে, হে আদম! আপনি সমস্ত মানুষের আদি পিতা। আল্লাহ তাআ’লা আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। আপনার মধ্যে তাঁর আত্মাকে ফুকিয়ে দিয়েছেন। আর ফেরেশতাগণকে আপনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দিলে তারা আপনাকে সেজদা করেন। অতঃপর আল্লাহ তাআ’লা আপনাকে জান্নাতে বসবাসের সুযােগ দেন। সুতরাং, আপনি কি আমাদের জন্য আপনার প্রতিপালকের কাছে সুপারিশ করবেন না? আপনি নিজেই তাে দেখছেন যে, আমরা কত মর্মান্তিক বিপদে রয়েছি। তখন আদম (আ) বলবেন, তােমরা বিশ্বাস কর, আমার প্রতিপালক আজ এতটা গােস্সা অবস্থায় আছেন যে, এর পূর্বে বা পরে কখনাে তিনি এত গােস্সা হননি। আমার প্রতিপালক আমাকে একটি বৃক্ষের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু আমার দ্বারা তার আদেশ লংঘন হয়েছে। (তাই আজ আমি নিজের চিন্তায় অস্থির।) আল্লাহ আমাকে বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও! তােমরা আমাকে ছাড়া অন্য কারাে কাছে যাও। তােমরা হযরত নূহ (আ) -এর কাছে গেলে তিনি হয়তাে তােমাদের উপকার করতে পারেন। অতঃপর লােকেরা হযরত নূহ (আ) -এর কাছে গিয়ে আবেদন করবে, আপনি হচ্ছেন দুনিয়ার মানুষের কাছে ঈমানের দাওয়াত দেয়ার প্রথম রাসূল। আল্লাহ তাআ’লা আপনাকে শােকর গুজার বান্দা বানিয়েছেন। আপনি নিজেই দেখছেন যে, আমরা কত মর্মান্তিক বিপদে আছি এবং আমাদের অবস্থা কত শােচনীয়। আপনি কি আমাদের জন্য আপনার প্রতিপালকের কাছে সুপারিশ করবেন? হযরত নূহ (আঃ) প্রত্যুত্তরে বলবেন, তােমরা বিশ্বাস কর যে, আমার প্রতিপালক আজ এতটা গােস্সা হয়েছেন যে পূর্বে তিনি কখনাে এত গােসা হননি। আর আজকের পরও তিনি কখনাে এতটা গােস্বা হবেন না। আর এটাও বাস্তব কথা যে, আমি আমার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলাম, এজন্য আমার জবাবদিহির আশংকা রয়েছে। আল্লাহ আমাকে বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও আমাকে বাঁচাও! তােমরা অন্য কারাে কাছে যাও। হযরত ইবরাহীমের (আ) কাছে গেলে হয়ত তিনি তােমাদের উপকার করতে পারেন। 

এরপর লােকেরা হযরত ইবরাহীম (আ) -এর কাছে আসবে এবং তাঁকে বলবে, আপনি আল্লাহর নবী এবং আল্লাহর নির্বাচিত বন্ধু। আমাদের জন্য আপনি আপনার প্রতিপালকের কাছে সুপারিশ করুন। আপনি নিজেই আমাদের দুরাবস্থা অবলােকন করছেন। তখন হযরত ইবরাহীম (আ) বলবেন, তােমরা বিশ্বাস কর যে, আমার প্রতিপালক আজ এতটা গােস্সা হয়েছেন যা এর পূর্বে কখনাে হননি এবং পরেও কখনাে হবেন না। আমি দ্বীনি প্রয়ােজনে তিনটি মিথ্যা কথা বলেছিলাম। আমি ভয় করছি যে, এজন্য কখন আমাকে ধরা হয়। একথা বলে তিনি তার মিথ্যা বলার বিষয়গুলাে উল্লেখ করবেন। অবশেষে তিনি বলবেন, আল্লাহ আমাকে বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও! তােমরা আমাকে বাদ দিয়ে হযরত মূসা (আ) -এর কাছে যাও। হয়ত তার দ্বারা তােমরা উপকৃত হতে পারবে। তখন লােকেরা হযরত মূসা (আ) -এর কাছে গিয়ে বলবে, হে মূসা! আপনি আল্লাহর রাসূল। আপনাকে আল্লাহ তাআলা রিসালত দান করে এবং আপনার সাথে বাক্যালাপ করে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আপনি আপনার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি নিজেই তাে আমাদের দুরাবস্থা দেখছেন। তখন হযরত মূসা (আ) বলবেন, তােমরা বিশ্বাস কর যে, আমার প্রতিপালক আজকের ন্যায় এতটা গােস্সা আর কখনাে হননি এবং ভবিষ্যতেও এমন গােস্সা কখনাে হবেন না। বাস্তব কথা হল আমি এক লােককে হত্যা করেছিলাম, যাকে হত্যা করার কোন নির্দেশ আল্লাহ আমাকে দেননি। সুতরাং আল্লাহ আমাকে বাঁচাও! আল্লাহ আমাকে বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও! তােমরা আমাকে বাদ দিয়ে হযরত ঈসা (আ) -এর কাছে যাও। হয়ত তিনি তােমাদেরকে উপকার করতে পারেন। অতঃপর লােকেরা হযরত ঈসা (আ) -এর কাছে যাবে এবং তাকে বলবে, হে ঈসা! আপনি আল্লাহর রাসূল এবং তার বাণী যা তিনি আপনার মাতা মরিমের কাছে পৌছায়েছেন। আপনি দোলনায় থাকতেই মানুষের সাথে কথা বলেছেন। এটা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব। আপনি আমাদের দুরাবস্থা নিজ চোখেই দেখছেন। আপনার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন । 

তিনি বলবেন, তােমরা বিশ্বাস কর আল্লাহ তাআলা আজ এতটা গােস্সা হয়েছেন, যা ইতিপূর্বে কখনাে হননি এবং ভবিষ্যতেও কখনাে হবেন না। একথা বলার পর নবী করীম (সঃ) হযরত ঈসা (আ) -এর কোন পদস্খলনের কথা উল্লেখ করেননি; যা স্মরণ করে তিনি সুপারিশ করতে অস্বীকার করবেন। বরং হযরত ঈসা (আ) বলবেন, হে আল্লাহ! আমাকে বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও! আমাকে বাদ দিয়ে তােমরা শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) -এর কাছে যাও (তিনি

তােমাদের উপকার অবশ্যই করবেন)। নবী করীম করীম (সঃ) বলেন, অতঃপর লােকেরা আমার কাছে আসবে এবং বলবে হে মুহাম্মদ (সঃ)! আপনি আল্লাহর রাসূল এবং নবীকুলের শেষ নবী (সঃ), আল্লাহ তাআলা আপনার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেছেন। আমরা দুরাবস্থায় আছি তাতে আপনি নিজেই দেখছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার প্রতিপালকের কাছে সুপারিশ করুন। একথা শুনে আমি রওয়ানা হব এবং আরশের নিম্নদেশে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেজদায় রত হব। অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমার কাছে তাঁর উত্তম প্রশংসা ও নীতিবাক্য তুলে ধরবেন, যা আমার পূর্বে কারাে কাছে প্রকাশ করেননি। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, ওহে মুহাম্মদ! মাথা উত্তোলন কর এবং তােমার যা ইচ্ছে প্রার্থনা কর, তােমার দাবী পূরণ করা হবে। আর তুমি সুপারিশ কর, তােমার সুপারিশও গ্রহণ করা হবে। অতঃপর আমি মাথা উত্তোলন করে, আবেদন করব; হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মতের প্রতি দয়া করুন। হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মতের প্রতি দয়া করুন। হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মতের প্রতি দয়া করুন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, ওহে মুহাম্মদ! তােমার উম্মতের যেসব লােকের কোন হিসাব নিকাশ নেই তাদেরকে নিয়ে জান্নাতের ডান দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করাও। এ দরজা ছাড়া অন্য দরজা পথেও প্রবেশ করা তাদের ইচ্ছাধীন বিষয়।

শাফাআ’ত, মাকামে মাহমুদ, উম্মতে মােহাম্মাদীর উচ্চাসন

অতঃপর নবী করীম (সঃ) বলেন, যার নিয়ন্ত্রণে আমার প্রাণ, তাঁর নামে শপথ! জান্নাতের দরজা এতটা প্রশস্ত হবে যে, মক্কা-মদীনার মধ্যে যতটা ব্যবধান। অর্থাৎ মক্কা-মদীনার মধ্যবর্তী স্থানের দূরত্ব সমান হবে জান্নাতের প্রশস্ততা। অথবা তিনি বলেছেন, মক্কা ও বসরার মধ্যবর্তী স্থানের সমান জান্নাতের দরজার প্রশস্ততা। (বােখারী, মুসলিম, আতারগীব আত্তারহীব) হযরত আনাস (রা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে, নবী করীম (সঃ) শাফায়াতের বিবরণ দান করার পর কোরআন মজীদের এ আয়াতটি পাঠ করেন যার অর্থ, অতিসত্বর আপনার প্রতিপালক আপনাকে মাকামে মাহমুদের দণ্ডায়মান করাবেন। অতঃপর বললেন, এটাই হচ্ছে সে মাকামে মাহমুদা যা তােমাদের নবীর সাথে তা প্রদানের অঙ্গীকার করা হয়েছে। (বােখারী, মুসলিম)

কেয়ামতের আলামত ? কেয়ামত কোথায় হবে ?

 

Leave a Comment